বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে দায়ের করা মানহানির মামলায় বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত।
বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আতাউল হক এ পরোয়ানা জারি করেন।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ কমিটির সহ-সম্পাদক মনির হোসেন গত ১৭ নভেম্বর এ মানহানি মামলা দায়ের করেন। ওই দিন শুনানি নিয়ে ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে তারেককে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয় আদালত। সেই নির্দেশনা মেনে হাজির না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত।
আদালতের সেই নির্দেশনা মেনে হাজির না হওয়ায় বুধবার বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেয় মহানগর হাকিম আতাউল হক।
তারেককে গ্রেপ্তার করা গেল কি-না সে বিষয়ে ২৯ জানুয়ারি আদালতে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারমান তারেক রহমান গত ৭ নভেম্বর লন্ডনে এক অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘পাকবন্ধু’ আখ্যায়িত করে বলেন, তিনি ‘পাকিস্তানি পাসপোর্টে’ দেশে ফিরে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়েছিলেন এবং এ কারণে তার বিরুদ্ধে ‘দেশদ্রোহিতার মামলা’ হওয়া উচিৎ।
ওই প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বাদী তার মামলায় বলেন, তারেকের বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের সম্মানহানি করা হয়েছে।
ওই বক্তব্যের কারণে ঢাকা, যশোর ও শেরপুরের আদালতে আরো কয়েকটি মামলা হয়েছে তারেকের বিরুদ্ধে যার মধ্যে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগও রয়েছে।
সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে ২০০৭ সালের ৭ মার্চ তারেক রহমান গ্রেপ্তার হন। তার বিরুদ্ধে প্রায় এক ডজন দুর্নীতির মামলা রয়েছে।
সুপ্রিম কোর্ট থেকে জামিন নিয়ে পরের বছরের সেপ্টেম্বর মাসে চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্য যান তিনি। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে তখন থেকে সেখানেই অবস্থান করছেন তারেক।