আদালত

মানবতাবিরোধী অপরাধ

আজহারের মামলার রায় মঙ্গলবার

এটিএম আজহারুল ইসলাম
এটিএম আজহারুল ইসলাম

মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বদর নেতা এটিএম আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে করা মামলার রায় আগামীকাল মঙ্গলবার ঘোষণা করা হবে।

সোমবার বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ দিন ঠিক করেছে।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়।

গত বছরের ১২ নভেম্বর মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা, নির্যাতন, অপহরণ, গুম, আটকসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের নয় ধরনের ঘটনায় জামাতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটি০এম আজহারের বিরুদ্ধে ছয়টি অভিযোগ গঠন করে ট্রাইব্যুনাল।

এরপর ২৬ ডিসেম্বর সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ইদ্রিস আলীসহ ১৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।

আলবদর নেতা আজহারের বিরুদ্ধে একাত্তরে এক হাজার ২২৫ জনকে গণহত্যা, চারজনকে হত্যা, একজনকে ধর্ষণ, ১৭ জনকে অপহরণ, ১৩ জনকে আটক ও নির্যাতন এবং শত শত বাড়িঘরে লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ আনা হয়।

এতে বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ইসলামী ছাত্র সংঘের (বর্তমানে ছাত্রশিবির) রংপুর জেলা কমিটির সভাপতি এবং আলবদর বাহিনীর রংপুর শাখার কমান্ডার ছিলেন। তার নেতৃত্বেই রংপুরে শান্তি কমিটি, আলবদর, আলশামস ও রাজাকার বাহিনী গঠিত হয়। তার নির্দেশে কারমাইকেল কলেজের ছয় শিক্ষক এবং এক শিক্ষকপত্নীকে হত্যা করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার লোহানীপাড়ার বাসিন্দা এ টি এম আজহার বুদ্ধিজীবী, মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, আইনজীবী ও বিশিষ্ট নাগরিক হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা। তিনি একাত্তরের ৩০ মে কারমাইকেল কলেজের ছয় শিক্ষকসহ সাতজনকে হত্যায় নেতৃত্ব দিয়ে পুরো রংপুরকে এক আতঙ্কিত জনপদে পরিণত করেছিলেন। বিশিষ্ট আইনজীবী ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এ ওয়াই মাহফুজ আলীকে রংপুর সেনানিবাসের টর্চার সেলে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। এর পর তাকে এবং একজন গর্ভবতী নারীসহ আরও ১১ জনকে হাত-পা বেঁধে দখিগঞ্জ মহাশ্মশানে গুলি করে হত্যা করা হয়।

এছাড়া রংপুরের বদরগঞ্জের ঝাড়ূয়ারবিল ও পদ্মপুকুর এলাকায় নারী-পুরুষসহ এক হাজার ২০০ জনকে ব্রাশফায়ারে হত্যা এবং ওই এলাকায় বাড়িঘর লুটতরাজ করে অগ্নিসংযোগ করারও অভিযোগ আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।

২০১২ সালের ১৫ এপ্রিল এটিএম আজহারের যুদ্ধাপরাধের তদন্ত শুরু হয়। ওইবছর ২২ আগস্ট মগবাজারের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তদন্ত শেষে প্রসিকিউটর এ কে এম সাইফুল ইসলাম ও নূরজাহান বেগম মুক্তা গতবছর ১৮ জুলাই আজহারের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেন। এরপর নভেম্বরে অভিযোগ গঠন করে ২৬ ডিসেম্বর শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ।

এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) এম ইদ্রিস আলীসহ প্রসিকিউশনের পক্ষের মোট ১৯ জন সাক্ষ্য দেন। তবে সপ্তম সাক্ষী আমিনুল ইসলামকে বৈরি ঘোষণা করা হয়।

এছাড়া আজহারের যুদ্ধাপরাধের একজন ‘ভিকটিম’১৪ নম্বর সাক্ষী হিসাবে ক্যামেরা ট্রায়ালে জবানবন্দি দেন।

চলতি বছর ৩ ও ৪ আগস্ট আজহারের পক্ষে একমাত্র সাফাই সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন আনোয়ারুল হক।

দেশটিভি/আরসি
দেশ-বিদেশের সকল তাৎক্ষণিক সংবাদ, দেশ টিভির জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখতে, সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল:

এছাড়াও রয়েছে

আল আমিনের তালাক: সন্তান নিয়ে আদালতে স্ত্রী

অস্ত্র মামলা: জি কে শামীমসহ ৮ জনের যাবজ্জীবন

আবেদন করলে খালেদা জিয়ার আবারো মুক্তির মেয়াদ বাড়বে: আইনমন্ত্রী

রুবেল-বরকতের অর্থপাচার মামলা ফের তদন্তের নির্দেশ আদালতের

জাহালমকে পাঁচ লাখ টাকা দিলো ব্র্যাক ব্যাংক

৮৫ নির্বাচন কর্মকর্তাকে চাকরিতে পুনর্বহালের আদেশ বাতিল

সরকারি কর্মচারীদের গ্রেপ্তারে পূর্বানুমতি বাতিলের রায় স্থগিত

ডেসটিনির চেয়ারম্যান হারুন-অর-রশিদের জামিন

সর্বশেষ খবর

স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার নারী দিবস উদযাপন

শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করলেন মোস্তাফিজুর রহমান

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইউল্যাব’ শিক্ষার্থীদের ফটোওয়াক

ভান্ডারিয়া ও মঠবাড়িয়ায় পৌর প্রশাসক নিয়োগ