রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ টেলিকম বিভাগের কর্মী গোলাম সামছুল হায়দারকে হত্যার দায়ে তার তিন সহকর্মীসহ ছয় জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।
মঙ্গলবার ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইবুনাল-১ এর বিচারক শাহেদ নূরউদ্দিন এ রায় ঘোষণা করেন।
আট বছর আগের এ মামলার অপর দুই আসামিকে যাজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
ফাঁসির দণ্ডাদেশপ্রাপ্তরা হলেন- টেলিকম বিভাগের অফিস সহকারী মো. হাফিজুল হোসেন, হিসাবরক্ষক মো. আবদুল লতিফ, সুপারিনটেনডেন্ট আনোয়ার হোসেন সরকার, বাবুল ওরফে তপন চক্রবর্তী, মো. ওয়াসিম ও মো. কাজল মিয়া।
যাবজ্জীবন দণ্ডাদেশপ্রাপ্তরা হলেন- শামসুল আলম ও রাজন মিয়া। এ দুজনকে কারাদণ্ডের পাশাপাশি একলাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরো এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
আসামিদের মধ্যে হাফিজুল, লতিফ, বাবুল ও রাজন মিয়া পলাতক। আরেক আসামি রানা মিয়া মামলা চলাকালে মারা যান।
বিগত ২০০৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মতিঝিল এজিবি কলোনির সামনের রাস্তায় সামছুল হায়দারকে কুপিয়ে হত্যার পর তার ভাই আবুল কালাম আজাদ মতিঝিল থানায় অজ্ঞাত পরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে এ হত্যা মামলা করেন।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, আসামি আবদুল লতিফ ও হাফিজুল হোসেন রাজারবাগ পুলিশ লাইনের টেলিকম কার্যালয়ের এনসি প্যাক ব্যাটারি কেনার জন্য কোটি টাকার একটি ভুয়া বিল ভাউচার এজি অফিসের সুপারিনটেনডেন্টের কাছে জমা দেন।
সুপারিনটেনডেন্ট আনোয়ার হোসেন সরকার নিজে উদ্যোগী হয়ে ভ্যাট, ট্যাক্স বাদ দিয়ে মের্সাস হারুন এন্টারপ্রাইজের নামে বিলটি পাস করিয়ে ৯৪ লাখ টাকার একটি চেক দেন, যেটি নিয়েছিলেন ওই প্রতষ্ঠানের মালিক হারুন অর রশিদ।
২০০৬ সালেরর মার্চ মাসে রাজধানীর ঈশাখাঁ সড়কের উত্তরা ব্যাংক শাখায় চেকটি নগদায়ন করে আসামিরা টাকা আত্মসাৎ করেন।
এ ঘটনা প্রকাশের পর হাফিজুলকে সরিয়ে তার জায়গায় সামছুল হায়দারকে নিয়োগ করা হয়। এতে ক্ষুব্ধ হন হাফিজুল। এই ক্ষোভের জেরেই হাফিজুল ও অন্যরা ভাড়াটে খুনি দিয়ে সামছুল হায়দারকে হত্যা করায়।
গ্রেপ্তারের পর কাজল, ওয়াসিম, শামসুল আলমসহ চারজন সরাসরি হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকারের পাশাপাশি হত্যা পরিকল্পনায় অন্য আসামিদের জড়িত থাকার কথা জানান।
২০০৯ সালে মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালে স্থানান্তর করা হয়।৪৫ জনের সাক্ষ্য শুনে আদালত রায় ঘোষণা করে।
অর্থ আত্মসাতের ওই ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশনের করা একটি মামলাও আদালতে বিচারাধীন বলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানান।