চিত্রনায়িকা নাজনীন আকতার হ্যাপীর করা মামলায় হাইকোর্ট থেকে পাওয়া জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর হাকিম আদালতে গিয়ে জাতীয় ক্রিকেট দলের পেসার রুবেল হোসেন আত্মসমর্পণের পর কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন জানান।
জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন মহানগর হাকিম মোহাম্মদ আনোয়ার ছাদাত।
হ্যাপীর আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মনসুর রিপন বলেন, আদালতে এ বিষয়ে শুনানি শেষে এ আদেশ দিয়েছে।
গত ১৩ ডিসেম্বর রুবেলের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন আইনে মিরপুর থানায় মামলা করেন হ্যাপী, যাতে ‘বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দৈহিক সম্পর্ক’ গড়ার অভিযোগ আনা হয় জাতীয় দলের এ ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে।
এরপর ১৫ ডিসেম্বর রুবেল হাইকোর্টে হাজির হয়ে আগাম জামিন চাইলে বিচারপতি সৈয়দ এ বি মাহমুদুল হক ও বিচারপতি মো. আকরাম হোসেন চৌধুরীর বেঞ্চ চার সপ্তাহের জামিন মঞ্জুর করে। আগামী রোববার পর্যন্ত ওই জামিনের মেয়াদ রয়েছে।
হ্যাপীর অভিযোগ নাকচ করে রুবেল বলেন, ওই তরুণী তাকে ‘ব্ল্যাকমেইল’ করছে।
হ্যাপী নারী নির্যাতন আইনে মামলা করায় পুলিশের ব্যবস্থাপনায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার ডাক্তারি পরীক্ষাও হয়েছে।
ওই পরীক্ষার প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি হ্যাপীকে জোর করে যৌন সম্পর্কে বাধ্য করা হয়েছে, এমন কোনো আলামত চিকিৎসকরা পাননি।
হ্যাপীর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক মো. মাসুদ পারভেজের আবেদনে গত ৩১ ডিসেম্বর ঢাকার একটি আদালত রুবেলের ডিএনএ পরীক্ষারও অনুমতি দিয়েছে।
২১ বছর বয়সী হ্যাপীর দাবি, ফেইসবুকের মাধ্যমে প্রায় এক বছর আগে তার সঙ্গে পরিচয় হয় রুবেলের। বিয়ের কথা বলে নয় মাস ধরে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল তাদের। একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ দ্বিতীয় সেমিস্টারের ছাত্রী হ্যাপী ‘কিছু আশা কিছু ভালবাসা’ চলচ্চিত্রে প্রধান অভিনেত্রীর ভূমিকায় ছিলেন। তার অভিনীত আরও কয়েকটি চলচ্চিত্র মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে।
আসন্ন বিশ্বকাপ ক্রিকেটের জন্য বাংলাদেশ দলে ডাক পাওয়া রুবেলকে জাতীয় দল থেকে বাদ দেয়ার জন্য হ্যাপী হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করলেও আদালত তা খারিজ করে দেয়। এর বিরুদ্ধে আপিল করবেন বলেও ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন হ্যাপী।