আদালত অবমাননার অভিযোগে জামাত-শিবিরের ৫ নেতা ও তাদের আইনজীবী তাজুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
তারা হলেন- জামাতের ভারপ্রাপ্ত আমির মকবুল আহমেদ, ভারপ্রাপ্ত নায়েবে আমির মুজিবুর রহমান ও ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ড. শফিকুর রহমান, জামাতের সহযোগী সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুল জব্বার ও সাধারণ সম্পাদক মো. আতিকুর রহমান এবং ট্রাইব্যুনালে জামাত নেতাদের আইনজীবী অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম।
সোমবার চেয়ারম্যান এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ নোটিশ জারি করেন।
ট্রাইব্যুনালের রায় নিয়ে মন্তব্য করায় কেন তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে ব্যবস্থা নেয়া হবে না- তা জানতে চেয়েছে ট্রাইব্যুনাল।
দুই সপ্তাহের মধ্যে তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে অথবা আইনজীবীর মাধ্যমে এর ব্যাখ্যা দিতে হবে। এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানি হবে ২৮ জানুয়ারি।
গত ১ জানুয়ারি সংগঠন হিসেবে জামাত ও ওই ৬ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল অবমাননার অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন।
৫ জানুয়ারি এ বিষয়ে শুনানি করে সোমবার আদেশের দিন রেখেছিল ট্রাইব্যুনাল। আদেশে সংগঠন হিসেবে জামাত
মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে গতবছরের ৩০ ডিসেম্বর জামাতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামের ফাঁসির রায়ের পর ৩১ ডিসেম্বর ও ১ জানুয়ারি হরতাল করে জামাত।
ওইসময় রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বিবৃতি দিয়ে ট্রাইব্যুনালের বিচার নিয়ে বিভিন্ন বিরূপ মন্তব্য করেন জামাত-শিবিরের শীর্ষ নেতারা।
আজহারের আইনজীবী তাজুল ইসলাম রায়ের পর বলেন, ‘ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশন যে সাক্ষ্য-প্রমাণ দিয়েছে, সেটা গ্রহণ না করে ডাস্টবিনে ছুড়ে ফেলা হলেই সুবিচার হতো। এসব সাক্ষ্য-প্রমাণে মৃত্যুদণ্ড হওয়া দূরের কথা, এসব অভিযোগ দাখিলের জন্য প্রসিকিউশনের জরিমানা হওয়ার দরকার ছিল।’
আজহারের ফাঁসির রায়কে ‘অষ্টম আশ্চর্য বলেও আখ্যায়িত করেন এ আইনজীবী।
আগের বিভিন্ন রায় ঘিরেও যার আচরণ সমালোচিত হয়েছে বলে গণমাধ্যম অবহিত রয়েছে।