বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা গ্যাটকো দুর্নীতি মামলার বৈধতা নিয়ে জারি করা রুলের শুনানির দিন ঠিক করার আদেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।
আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি এ বিষয়ে শুনানি দিন ধার্য করার কথা রয়েছে হাইকোর্টের।
বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি জেবিএম হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
বিগত ২০০৭ সালে দুদকের উপ-পরিচালক গোলাম শাহরিয়ার চৌধুরী মতিঝিল থানায় খালেদা জিয়া ও তার কনিষ্ট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোসহ ১৩ জনকে আসামি করে মামলাটি দায়ের করে।
মামলায় চট্টগ্রাম ও কমলাপুরে কন্টেইনার টার্মিনালে কন্টেইনার হ্যান্ডেলিংয়ের জন্য মেসার্স গ্লোবাল এগ্রোটেড লিমিটেডকে ঠিকাদার হিসেবে নিয়োগ দিয়ে রাষ্ট্রের কমপক্ষে এক হাজার কোটি টাকা ক্ষতি করার অভিযোগ আনা হয়।
গত ২০০৮ সালে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। মামলাটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন খালেদা জিয়া। মামলাটি কেন বেআইনি ও কর্তৃত্ব বহির্ভূত হিসেবে ঘোষণা করা হবে না জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট।
এ মামলা নিয়ে বেশ কিছু তথ্য:
প্রায় সাত বছর পর এমন এক সময়ে দুদক এই মামলা সচল করার উদ্যোগ নিল, যখন চলমান অবরোধে নাশকতার ঘটনায় বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াকে হুকুমের আসামি করে একাধিক মামলা হয়েছে। জিয়া এতিমখানা ও দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় চলছে সাক্ষ্যগ্রহণ।
এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি করে ২০০৮ সালের ১৫ জুলাই বিচারপতি খাদেমুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মাশুক হোসেন আহমেদের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুল জারির মাধ্যমে এ মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেছিল।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপ-পরিচালক গোলাম শাহরিয়ার চৌধুরী ২০০৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর সাবেক চার দলীয় জোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, তার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে তেঁজগাও থানায় এ মামলা দায়ের করেন।
ওই মামলা হওয়ার পরদিন খালেদা জিয়া ও কোকোকে গ্রেপ্তার করা হয়। ১৮ সেপ্টেম্বর মামলাটি অন্তর্ভুক্ত করা হয় জরুরি ক্ষমতা আইনে। পরের বছর ১৩ মে খালেদা জিয়াসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে এ মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।
এতে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান গ্যাটকোকে ঢাকার কমলাপুর আইসিডি ও চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের কাজ পাইয়ে দিয়ে রাষ্ট্রের ১৪ কোটি ৫৬ লাখ ৩৭ হাজার ৬১৬ টাকার ক্ষতি করেছেন।
মামলাটি জরুরি ক্ষমতা আইনের অন্তর্ভুক্ত করার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এবং বিচারিক আদালতে মামলার কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে ২০০৭ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে আলাদা দুটি রিট আবেদন করেন খালেদা জিয়া ও আরাফাত রহমান কোকো।
এর তিন দিন পর ওই খালেদা ও কোকোর বিরুদ্ধে মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে রুল দেয় হাইকোর্ট। মামলাটি জরুরি ক্ষমতা আইনের অন্তর্ভুক্ত করা কেন ‘বেআইনি ও কর্তৃত্ব বহির্ভূত’ ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চাওয়া হয় ওই রুলে। তবে হাইকোর্টের দেয়া স্থগিতাদেশ পরে আপিল বিভাগে বাতিল হয়ে যায়।
দুদক আইনে গ্যাটকো মামলা দায়েরের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০০৮ সালে আরেকটি রিট আবেদন করেন খালেদা জিয়া। তার আবেদনে হাইকোর্ট আবারো মামলার কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ দেয়।