হরতাল-অবরোধের নামে নাশকতা-সহিংসতা বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। সারাদেশে হরতাল-অবরোধে নাশকতার পরিপ্রেক্ষিতে রোববার এ নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে রুলসহ এ আদেশ দিয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার শাহিনুর ইসলাম নামে কেরানীগঞ্জের এক ব্যবসায়ী রিট আবেদনটি করেন। আজ ওই রিটের ওপর প্রাথমিক শুনানি হয়।
রোলে স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব, পররাষ্ট্র সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, র্যা বের মহাপরিচালক, বিজিবির মহাপরিচালক, ডিএমপি কমিশনার, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও বিকল্পধারার সভাপতি একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীসহ বিবাদীদের এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
অপর এক রিটে হরতাল-অবরোধের মধ্যে মাধ্যমিক পরীক্ষা নেয়া এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার ব্যবস্থা করতে সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে একই আদালত। এক্ষেত্রে কেউ বাধা দিলে ‘সিরিয়াস ব্যবস্থা’নিতে বলা হয়েছে।
এছাড়া হরতাল-অবরোধের মতো রাজনৈতিক কর্মসূচি চলাকালে ‘শিক্ষার জন্য ক্ষতিকর কার্যক্রম’কেন ‘অবৈধ ও অসাংবিধানিক’ ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল দিয়েছে আদালত।
এই রিটেও স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব, পররাষ্ট্র সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, র্যা বের মহাপরিচালক, বিজিবির মহাপরিচালক, ডিএমপি কমিশনার, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও বিকল্পধারার সভাপতি একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে বিবাদী করা হয়েছে।
কেরানীগঞ্জের ইস্পাহানি স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির পক্ষে শফিউল আজম খান বারকু এই রিট আবেদন করেন।
প্রায় দেড় মাস ধরে চলা ২০ দলের অবরোধ –হরতালে কমপক্ষে ৬৯ সাধারণ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। পেট্রোলবোমায় দগ্ধ হয়ে শতাধিক মানুষ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাও নিচ্ছেন।
সাবেক প্রধান বিচারপতি ও আইন কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক এর আগে সাংবাদিকদের বলেন, বিদ্যমান আইনেই দেশে চলমান রাজনৈতিক সহিংসতায় জ্বালাও পোড়াওয়ের বিচার সম্ভব বলে মত প্রকাশ করেছেন।
নির্দলীয় সরকারের অধীনে আগাম নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনে থাকা বিএনপিসহ ২০ দল গত ৫ জানুয়ারি থেকে টানা অবরোধ চালিয়ে আসছে।
এরইমধ্যে দফা হরতাল কর্মসূচি পালন করছে বা করেছে তারা। চলতি মাসের ২ তারিখে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও হরতালের কারণে পিছিয়ে শুক্র ও শনিবার পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে। সাপ্তাহিক ছুটি বাদে প্রতিদিনই চলছে ২০ দলের হরতাল।