মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার রাজাকার, শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান পলাতক আবদুল জব্বারকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। মঙ্গলবার সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহীমের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ রায় দেয়।
আবদুল জব্বারকে ৪টি অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং একটি অভিযোগে ২০ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
জব্বারের বিরুদ্ধে একাত্তরে গণহত্যা, হত্যা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, নির্যাতন, অপহরণ ও ধর্মান্তরিত করার মতো ৫টি অভিযোগের সব কটিই প্রমাণিত হয়েছে।
জব্বারকে যে ৪টি অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়া হয় সেগুলো হলো: মঠবাড়িয়ায় দুইজনকে হত্যা, ফুলঝুড়িতে একজনকে হত্যা ও ৩৬০টি বাড়িঘরে লুটপাট, নলীতে ১১ জনকে হত্যা ছাড়াও ৬০টি বাড়িতে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ এবং আঙ্গুলকাটা ও মঠবাড়িয়ায় ৩৭ জনকে আটকের পর ২২ জনকে হত্যা। আর ফুলঝুরিতে প্রায় ২০০ হিন্দুকে জোর করে ধর্মান্তরিত করার অভিযোগে ২০ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
আব্দুল জব্বারের অপরাধ মৃত্যুদণ্ডযোগ্য হলেও বয়স বিবেচনায় তাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে জানানআন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর জাহিদ ইমাম।
তবে, বয়স বিবেচনায় দেয়া এ রায়ের সমালোচনা করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী তুরিন আফরোজ।
এদিকে, রায়ের বিরোধিতা করে আসামি পক্ষের আইনজীবী মো. আবুল হাসান বলেন, এর বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন তারা।
এ রায়ের মধ্য দিয়ে মানবতা বিরোধী অপরাধের ১৭তম রায় ঘোষণা করলো আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।