জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বহাল রেখে মামলা দুটির কার্যক্রম আগামী ৫ এপ্রিল পর্যন্ত মুলতবি করেছে আদালত।
বুধবার রাজধানীর পুরান ঢাকার বকশিবাজারে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আবু আহমেদ জমাদার এ আদেশ দেন।
এর আগে খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতেই তাকে গ্রেপ্তারে জারি করা পরোয়ানা প্রত্যাহারসহ কয়েকটি আবেদনের শুনানি শুরু হয়। শুনানির শুরুতে খালেদার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রত্যাহার, আদেশ সংশোধন, জামিন বহাল ও সাক্ষ্য পেছানোর আবেদন করেন তার আইনজীবীরা।
এ সময় বিএনপি চেয়ারপারসন ‘নিরাপত্তাজনিত কারণে’ আদালতে আসতে পারছেন না বলে তার অনুপস্থিতির পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন খালেদার আইনজীবী এজে মোহাম্মদ আলী।
বিচারকের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে উচ্চ আদালতে আবেদনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এটা মিডিয়া ট্রায়াল হচ্ছে, যা বিচারকের অর্ডারে রিফ্লেক্ট হচ্ছে। অনাস্থা জানিয়ে উচ্চ আদালতে আবেদন করা হয়েছে এবং তার রুল জারি হয়েছে, যা নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।
এর আগে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আজও আদালেত যাবেন না বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া।
সানাউল্লাহ বলেন, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত না হওয়ায় খালেদা জিয়া আদালতে আসতে পারছেন না।
এছাড়া মামলাটির অপর আসামি বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান খালেদার বড় ছেলে তারেক রহমান আইনজীবীর মাধ্যমে হাজিরা দিতে পারবেন।
জিয়া অরফানেজ ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় নির্ধারিত ৬৩ দিনের মধ্যে মাত্র ৭ দিন আদালতে হাজিরা দেন খালেদা জিয়া। সর্বশেষ গত বছর ২৪ ডিসেম্বর আদালতে হাজিরা দেন তিনি।
পরে নির্ধারিত ২৫ ফেব্রুয়ারিতেও হাজির না হলে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত।
উল্লেখ্য, বিগত ২০০৮ সালের ৩ জুলাই জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুর্নীতির অভিযোগে রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করে দুদক। এতিমদের সহায়তা করার উদ্দেশ্যে একটি বিদেশি ব্যাংক থেকে আসা প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এ মামলা দায়ের করা হয়।