ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আলবদর কমান্ডার কামারুজ্জামানের রায়ের রিভিউ শুনানির তারিখ নির্ধারণের আদেশ রোববার।
বৃহস্পতিবার কামারুজ্জামানের আইনজীবী শিশির মোহাম্মদ মনির সর্বোচ্চ আদালতের রায় রিভিউয়ের জন্য সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদন করেন। পরে রাষ্ট্রপক্ষ শুনানির তারিখ চেয়ে আবেদন করলে চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী এ আদেশের দিন ধার্য করে।
অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, চেম্বার আদালতে শুনানিতে আসামিপক্ষের কোনো আইনজীবী ছিলেন না। তবে এটা শুনানি হওয়া দরকার। আদালত বলেছে, রোববার তারিখ জানিয়ে আদেশ দেয়া হবে।
এর আগে বৃহস্পতিবার কামারুজ্জামানের পক্ষে তার আইনজীবীরা হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় চূড়ান্ত রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ (পুনর্বিবেচনা) আবেদনটি দাখিল করেন।
রিভিউ আবেদন দাখিল শেষে তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির বলেন, ৪৫ পৃষ্ঠার রিভিউ আবেদনে কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগের দেয়া রায়ের ৪৪টি অসঙ্গতি তুলে ধরেছি। আবেদনটি এখন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি হবে।
গতকাল বুধবার বেলা ১১টার দিকে কামারুজ্জামানের আইনজীবী অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম, শিশির মনির, ব্যারিস্টার নজিবুর রহমান, ব্যারিস্টার এহসান এ সিদ্দিকী ও অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আখন্দ ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে তার সঙ্গে কারাগারে সাক্ষাৎ করতে যান।
কামারুজ্জামানের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে অ্যাডভোকেট তাজুল সাংবাদিকদেরকে আপিল বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ করার কথা জানান।
গত ১৮ ফেব্রুয়ারি প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ চার বিচারপতির বেঞ্চ মুক্তিযুদ্ধের সময় ময়মনসিংহের আল-বদর বাহিনীর প্রধান কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় ঘোষণা করেন। ১৯ ফেব্রুয়ারি কামারুজ্জামানের মৃত্যু পরোয়ানায় সই করেন বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর তিন বিচারপতি। ট্রাইব্যুনাল থেকে মৃত্যু পরোয়ানা পাঠানো হয় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের আইজিপি (প্রিজন), স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে। কারাগারে কামারুজ্জামানকে মৃত্যু পরোয়ানা পড়ে শোনানো হয়।
২১ ফেব্রুয়ারি কারাগারে দেখা করতে যাওয়া আইনজীবীদের রিভিউ আবেদনের নির্দেশ দেন কামারুজ্জামান। এরপর ২৮ ফেব্রুয়ারি কারাগারে তার সঙ্গে দেখা করেন পরিবারের সদস্যরা।
উল্লেখ্য, মুক্তিযুদ্ধের সময় আল বদর বাহিনীর প্রধান হয়ে ময়মনসিংহ অঞ্চলে মানবতাবিরোধী অপরাধের নেতৃত্ব দেন কামারুজ্জামান। ২০১৩ সালের মে মাসে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ তাকে ফাঁসির আদেশ দেয়। গত বছরের ৩ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালের রায় বহাল রাখেন আপিল বিভাগ।