চিকিৎসক শামারুখ মাহজাবিন হত্যা মামলার আসামি তার স্বামী হুমায়ুন সুলতানকে হাইকোর্টের দেয়া জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিলের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে আপিল বিভাগ।
বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বে তিন বিচারপতির বেঞ্চ রাষ্ট্রপক্ষের আপিলের আবেদনটি খারিজ করে দেয়।
এ আদেশের ফলে হুমায়ুনের মুক্তিতে আর কোনো বাধা থাকল না।
হুমায়ুনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন এম আমিরুল ইসলাম ও মো. মুনসুরুল হক চৌধুরী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সাধন কুমার বণিক।
গত ২ মার্চ হাইকোর্টের থেকে জামিন পান হুমায়ুন। এর দুই দিনের মাথায় রাষ্ট্রপক্ষ হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে চেম্বার আদালতে গেলে বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী জামিন স্থগিত করে আবেদনটি পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দেয় এবং নিয়মিত আপিল করার কথা বলে।
এরপর গত ৯ মার্চ প্রধান বিচারপতি নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার বিচারকের বেঞ্চ দুই পক্ষের বক্তব্য শুনে হাইকোর্টের দেয়া জামিন স্থগিত করলে হুমায়ুনের মুক্তি আটকে যায়।
এ বিষয়ে শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন খারিজ করে দিলে হাইকোর্টের দেয়া জামিনই বহাল থাকে।
আদেশের পর আসামিপক্ষের আইনজীবী মুনসুরুল হক সাংবাদিকদের বলেন, হাইকোর্ট হুমায়ুন সুলতানকে জামিন দিয়েছিল। বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপক্ষের লিভ টু আপিল খারিজ করে দেয়ায় তার মুক্তিতে আর কোনো আইসনগত বাধা নেই।
উল্লেখ, গতবছর ১৩ নভেম্বর রাজধানীর ধানমণ্ডিতে টিপু সুলতানের বাসা থেকে ডা. জেসমিন পুত্রবধূ শামারুখকে সেন্ট্রাল হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সে সময় হমায়ুনের পরিবার আত্মহত্যার কথা বলেছিল। যশোরের অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলী নুরুল ইসলামের মেয়ে শামারুখের (২৪) সঙ্গে দুই বছর আগে যশোরের সাবেক সংসদ সদস্য টিপু সুলতানের ছেলে হুমায়ুনের বিয়ে হয়।
শামারুখ এমবিএসএস পাস করে বিএসএমএমইউতে এফসিপিএস করছিলেন। স্বামীর সঙ্গে শ্বশুরের ঢাকার বাড়িতে থাকতেন তিনি। টিপুর মা জেসমিনও হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজের শিক্ষক। ওই রাতেই শামারুখের বাবা নুরুল ইসলাম যশোর থেকে এসে তার মেয়েকে হত্যার অভিযোগে জামাতা, বেয়াই ও বেয়ানের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
মামলার পরপরই হুমায়ুনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার বাবা টিপু সুলতান ও মা ডা. জেসমিন আরা বেগম হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন পান। শামারুখ আত্মহত্যা করেছেন বলে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হলেও এই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেন তার বাবা। তার অভিযোগ, তার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে এবং প্রভাব খাটিয়ে এই ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা হচ্ছে।