মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আলবদর কমান্ডার মীর কাশেম আলীর রায় ঘোষণার মধ্যদিয়ে ১১টি মামলার রায় নিষ্পত্তি করতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। আর ট্রাইব্যুনালে রায়ের জন্য অপেক্ষমান রয়েছে খোকন রাজাকার, সৈয়দ মুহাম্মদ কায়সার, মোবারক হোসেনে এবং এটিএম আজহারের মামলাটি।
এছাড়া শেষপর্যায়ে থাকা জামাত নেতা আব্দুস সুবহানের মামলার উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শুরু হবে সোমবার। আর আপিল বিভাগে রায়ের জন্য অপেক্ষমান রয়েছে জামাত নেতা কামারুজ্জামানের মামলাটি। আপিল বিভাগে ৪টি মামলা চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হয়েছে।
মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্তদের মধ্যে ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকারের বিরুদ্ধে প্রথম রায়, ঘোষণা করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
এরপর একে একে রাজাকার শিরোমনি গোলাম আজম, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, আলবদর বাহিনীর কমান্ডার আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, ইসলামি ছাত্র সংঘের নেতা মোহাম্মদ কামারুজ্জামান, রাজাকার আব্দুল আলীম, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, একাত্তরের দুই আলবদর নেতা আশরাফুজ্জামান খান ও চৌধুরী মঈনদ্দীন এবং সর্বশেষ ২৮ অক্টোবর আলবদর কমান্ডার নিজামীর রায় ঘোষণা করে ট্রাইব্যুনাল।
এদের মধ্যে গোলাম আজম ও আব্দুল আলীমকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ছাড়া বাকি সবার মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়া হয়। আর একাত্তরের কসাই কাদের হিসেবে পরিচিত কাদের মোল্লাকে ট্রাইব্যুনাল যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিলেও সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ তাকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয়। পরে ২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর রাতে কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর করা হয়।
এ মুহূর্তে ট্রাইব্যুনাল-১ ও ২ এ রাজাকার জাহিদ হোসেন খোকন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মোবারক হোসেন, সৈয়দ মুহাম্মদ কায়সার ও এটিএম আজহার এ ৪ জনের মামলা রায়ের জন্য অপেক্ষমান রয়েছে। আর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে রায়ের জন্য অপেক্ষমান রয়েছে কামারুজ্জামানের মামলাটি।
এদিকে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ, সাঈদীর মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন সাজার আদেশ দিয়েছে। এছাড়া মৃত্যু হওয়ায় আব্দুল আলীমের সাজার বিরুদ্ধে আপিল নিস্পত্তি করে দেয় আপিল বিভাগ। আর আপিল বিভাগে শুনানির আগেই ২৩ অক্টোবর হাসপাতালের প্রিজন সেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রাজাকার শিরোমনি গোলাম আজম।
এছাড়া ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত আব্দুস সুবহানের মামলার সাক্ষ্যগ্রাহণ শেষ হয়েছে সোমবার এ মামলার যুক্তিতর্ক শুরু হবে। আর আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ ও সালাউদ্দীন কাদের চৌধুরীর আপিল শানানির অপেক্ষায় রয়েছে। এছাড়াও দলগতভাবে জামাত ও ব্যক্তিগতভাবে ১১ জনের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগের তদন্ত চলছে।