মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে কিশোরগঞ্জের তারাইলের রাজাকার কমান্ডার হাসান আলীর মামলার রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রেখেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। সোমবার দুই পক্ষের যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম এ নিদের্শ দেন।
পলাতক এ আসামির বিরুদ্ধে কিশোরঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় হত্যা, গণহত্যা, লুটপাট, অপহরণ ও অগ্নিসংযোগের ৬টি অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, একাত্তরে হাসান আলী ‘রাজাকারের দারোগা’ ও ‘রাজাকার ওসি’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ১৯৭১ সালের ২৩ এপ্রিল কিশোরগঞ্জের তাড়াইল থানা সদর দখল করে পাকিস্তানি বাহিনী ক্যাম্প বসালে হাসান আলী তাদের সবধরনের সহযোগিতা করেন। পরে তাড়াইলের রাজাকার কামান্ডার করা হয় তাকে।
অভিযোগে আরো বলা হয়, হাসান আলী তার সহযোগীদের নিয়ে তাড়াইলসহ কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ২৪ জনকে হত্যা, ১২ জনকে অপহরণ ও আটক এবং শতাধিক বাড়িঘরে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করেন। এছাড়াও জোর করে অর্থ আদায় ও ধর্মান্তরিত করার অভিযোগও আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এসব অভিযোগের কোনটির সঙ্গে হাসান আলির সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন রাষ্ট্র নিযুক্ত আসামির পক্ষের আইনজীবী।
উল্লেখ্য, মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে গত বছরের ১১ নভেম্বর কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার রাজাকার কামন্ডার সৈয়দ হাসান আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
এর আগে ২১ আগস্ট ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর আবুল কালাম আজাদ তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করেন। আসামি পলাতক থাকায় তার অনুপস্থিতেই মামলার কার্যক্রম চলে।
এদিকে, মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দেশের বিভিন্ন এলাকার আরো ৮ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ৪টি মামলা চলছে।