নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় একমাত্র সাজা মৃত্যুদণ্ডের বিধানকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। ফলে শুধুমাত্র মৃত্যুদণ্ডের বিধান আর থাকছে না।
মঙ্গলবার সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যের বেঞ্চ এ রায় দিয়েছে।
এ রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে 'ধর্ষণ, ধর্ষণ জনিত কারণে মৃত্যু ইত্যাদির শাস্তি'র বিধান রাখা ৬ অনুচ্ছেদের ২, ৩ এবং ৪ ধারায় থাকা মৃত্যুদণ্ড ছাড়াও যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, অর্থদণ্ডের বিধান বলবৎ থাকছে।
আদালতে রিটকারীদের আইনজীবী ছিলেন এমআই ফারুকি। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
আইনজীবীরা বলেন, ১৯৯৫ সালের আইনে বিচারাধীন মামলাগুলোর ভবিষ্যত এখন কী হবে তা আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায় হাতে পাওয়ার পর জানা যাবে।
সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে ১৯৯৫ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন (বিশেষ বিধান) আইনের ৬ এর ২, ৩, ৪ ধারা অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হয়েছে।
ওই ধারাগুলোতে ধর্ষণ ও হত্যার ক্ষেত্রে সাজা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছিল। তিনটি ধারায় সাজা হিসাবে মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবনের বিধান রাখা হলেও ৬(২) ধারায় ধর্ষণ করে হত্যার দায়ে কেবল মৃত্যুদণ্ডের বিধান ছিল।
২০০০ সালে আইনটি সংশোধন করা হলে পুরনো আইন রহিত হয়ে যায়। নতুন আইনের ৯(২) ধারায় ধর্ষণ করে হত্যার ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়।
কিন্তু ২০০০ সালের আইনের ৩৪ এর ২ ধারায় বলা হয়, এ ধরনের অভিযোগে ১৯৯৫ সালের আইনে যেসব মামলা বিচারাধীন, সেগুলো ওই আইনেই চলবে। আপিল বিভাগের রায়ে এই ধারাটিও অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হয়েছে।
মৃত্যুদণ্ড ছাড়া বিকল্প শাস্তির বিধান না থাকায় এর আগে হাইকোর্ট ১৯৯৫ সালের আইনের ৬ এর ২ ধারা সংবিধানপরিপন্থী বলে রায় দিয়েছিল।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, ১৯৯৬ সালের ১১ জুন মানিকগঞ্জের শিবালয় থানার শিবরামপুর গ্রামে শুকুর আলী নামে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোর সাত বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণ করে হত্যা করে। ২০০১ সালের ১২ জুলাই বিচারিক আদালত শুকুর আলীকে মৃত্যুদণ্ড দেয়।
২০০৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে। পরের বছর ২৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগেও সর্বোচ্চ সাজা বহাল থাকে।
শুকুর আলী রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করলে ওই বছরের ৪ মে তাও খারিজ করে দেয় আপিল বিভাগ।
এরপর শুকুর আলী ও বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) ২০০৫ সালের ডিসেম্বরে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন।
২০১০ সালের ২ মার্চ হাইকোর্ট ৬ এর ২ ধারা অসাংবিধানিক ঘোষণা করে। তবে আপিল বিভাগে শুকুর আলীর মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকায় হাইকোর্ট তাতে কোনো হস্তক্ষেপ করেনি।
সাজা না কমায় ওই রায়ের বিরুদ্ধে আবারও আপিল বিভাগে আসেন শুকুর ও ব্লাস্ট। এছাড়া ওই আইনে দণ্ডপ্রাপ্তদের আরও ১০টি আবেদনের শুনানি শেষে গত মাসে আপিল বিভাগ বিষয়টি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখে।