মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধ চাঁপাইনবাবগঞ্জের রাজাকার মাহিদুর রহমান ও আফসার হোসেনের অমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। বুধবার বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ রায় ঘোষণা করে।
সকাল সোয়া ৮টার দিকে মাহিদুর ও আফসারকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। পরে ১৩৩ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় পড়া শেষে প্রথম অভিযোগের জন্য আমৃত্যু এবং দ্বিতীয় অভিযোগের জন্য পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয় ট্রাইব্যুনাল।
এর আগে মঙ্গলবার সকালে বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ দিন ধার্য করেন।
একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, লুট এবং অগ্নিসংযোগের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের ৩টি অভিযোগ রয়েছে এ দুই রাজাকারের বিরুদ্ধে। প্রথম দুটি অভিযোগ প্রমাণিত হলেও, তিন নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।
একাত্তরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে সহায়তার জন্য রাজাকার বাহিনীতে যোগ দেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের আফসার হোসেন ও মাহিদুর রহমান। ওই সময় শিবগঞ্জ উপজেলায় রাজাকার ক্যাম্প স্থাপন করে হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ, ধর্মান্তরিতকরাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের ৩টি অভিযোগ আনা হয়েছে এ দুই রাজাকারের বিরুদ্ধে।
গত বছরের ২৭ অক্টোবর তাদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। চলতি বছরের ২২ এপ্রিল মাহিদুর ও আফসারের মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ায় রায় ঘোষনা অপেক্ষমাণ রাখে ট্রাইব্যুনাল-২। এ দুই রাজাকারের বিরুদ্ধে আনা তিনটি অভিযোগ হলো-
• ১৯৭১ সালের ৬ অক্টোবর চাপাইনবাবগঞ্জের শিবপুর থানার বিভিন্ন গ্রামে হামলা চালিয়ে ৩৯ জনকে আটকের পর ২৪ জনকে হত্যা।
• ১৩ অক্টোবর চাপাইনবাবগঞ্জের এরাদত বিশ্বাসের টোলা এবং কবিরাজ টোলা গ্রামের ৭০টি বাড়িতে লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগ।
• ২ নভেম্বর চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবপুর থানায় অপারেশন চালিয়ে আটক, নির্যাতন, অপহরণ, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ করে চার জনকে হত্যা।
আফসার ও মাহিদুর রাজাকারের বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ সন্দেহাতিতভাবে প্রমাণিত হয়েছে জানিয়ে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তির প্রত্যাশা রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সাহিদুর রহমান।
তবে রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছে দাবি করে এ দুইজনের খালাস চেয়েছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী আব্দুস সাত্তার।