বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্বাচন ৩ মাসের জন্য স্থগিত করেছে হাইকোর্ট—বৃহস্পতিবার বিচারপতি কাজী রেজাউল হক ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের বেঞ্চ এ আদেশ দিয়েছে।
একই সঙ্গে নির্বাচন সংক্রান্ত ২০১৫ সালের তফসিল কেন বাতিল করা হবে না তা জানতে রুল জারি করেছে আদালত।
বার কাউন্সিলের নির্বাচনের তফসিল, ভোটার তালিকা এবং ২০০৩ সালের সংশোধীত বার কাউন্সিল আইনের ৩ নম্বর ধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনুস আলী আকন্দ গত ১৭ মে এই রিট আবেদন করেন।
গত ১৯ মে আবেদনের ওপর শুনানি শেষে হাইকোর্ট রুলসহ এ আদেশ দেয়। আবেদনকারী ইউনুছ আলী নিজেই আদালতে শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যার্টনি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস।
আদেশের পর ইউনুছ আলী আকন্দ সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশ বার কাউন্সিল নির্বাচনের তফসিল কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং বার কাউন্সিল (সংশোধনী) আইনের ৩ নম্বর ধারা কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে রুল দিয়েছে আদালত।
বাংলাদেশ বার কাউন্সিল ও আইন সচিবকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
এর আগে শুনানিতে ইউনুছ আলী বলেন, বিধান অনুসারে নির্বাচনের ত্রিশ দিন আগে ভোটার তালিকা প্রকাশ করতে হবে। ২০ মে থেকে ভোট পিছিয়ে ২৭ মে নেয়া হয়েছে। নির্বাচনের মাত্র ছয়দিন বাকি থাকলেও ভোটার তালিকা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
গত ২৫ মার্চ এ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর ৯ এপ্রিল ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়, যাতে কাউন্সিলের ভোটার সংখ্যা দেখানো হয় ৪৮ হাজার ৪৬৫ জন। তবে ভোটার তালিকায় ‘অস্পষ্টতা ও একই ধরনের নাম একাধিকবার’ থাকার কথা জানিয়ে ৯ এপ্রিল কাউন্সিলের পাঁচ নির্বাচিত সদস্য এবং ১০১ জন আইনজীবী আলাদাভাবে বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও সচিবকে চিঠি দেন। চিঠিতে তারা তালিকা ঠিক করতে বলেন। এরপর কাউন্সিলের পাঁচজন সদস্য তলবি সভা করে ভোটের তারিখ পিছিয়ে দেয়।
তিনি আরো বলেন, বর্তমান কমিটির মেয়াদ ৩১ মে শেষ হবে। নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় এখন বার কাউন্সিল অর্ডার ১৯৭২ এর ৪৬ ক্ষমতা বলে সরকার অ্যাডহক কাউন্সিল গঠন করতে পারে।
রিটে অভিযোগ করা হয় নির্বাচনের ৩০ দিন আগে পূর্ণাঙ্গ ভোটার তালিকা প্রকাশের নিয়ম থাকলেও তা করা হয়নি। আগামী ২৭ মে বার কাউন্সিলের ভোট গ্রহণের দিন নির্ধারিত ছিল।