বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্বাচনের বিষয়ে আগামী বৃহস্পতিবার আদেশের দিন ঠিক করেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
রোববার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বেঞ্চ এ আদেশ দিয়েছে।
গত ২১ মে আইনজীবীদের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্বাচন তিন মাসের জন্য স্থগিত করে হাইকোর্ট। পূর্বনির্ধারিত দিন অনুযায়ী, ২৭ মে এই নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল।
এরপর হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে চেম্বার আদালতে যায় বার কাউন্সিল। চেম্বার আদালত তা শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠায়। রোববার আপিল বিভাগে ওই আবেদন শুনানি শেষে ২৮ মে আদেশের দিন ঠিক করেছে।
এর আগে ১৭ মে দুটি রিট আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. ইউনূস আলী আকন্দ।
ভোটার তালিকায় ত্রুটি ও তা সময়মতো প্রকাশ না হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে বার কাউন্সিল নির্বাচনের তফসিল অবৈধ ঘোষণা চেয়ে একটি আবেদন করা হয়। অপর আবেদনে তিনি বার কাউন্সিল (সংশোধিত) আইন, ২০০৩-এর ৩ ধারা অবৈধ ও সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিকের ঘোষণা চান। ২১ মে আবেদন দুটির পক্ষে ইউনূস আলী আকন্দ নিজে শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস।
গত ২৫ মার্চ বার কাউন্সিল নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা ও ৯ এপ্রিল ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়, যাতে ভোটার সংখ্যা দেখানো হয় ৪৮ হাজার ৪৬৫ জন। ২০ মে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। তবে ভোটার তালিকায় ত্রুটি ও একই নাম একাধিকবার থাকার অভিযোগ জানিয়ে কাউন্সিলের নির্বাচিত পাঁচ সদস্য এবং ১০১ জন আইনজীবী ২৯ এপ্রিল কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও সচিবকে চিঠি দেন।
এতে অভিযোগ করা হয়, আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রক সংস্থা হলেও কাউন্সিল নিজস্ব নথির সাহায্য না নিয়ে আইনজীবী সমিতিগুলোর পাঠানো সদস্য তালিকা ধরেই ভোটার তালিকা তৈরি করেছে। ওই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে ১২ মে কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অ্যাটর্নি জেনারেল বিশেষ সভা ডাকেন, যাতে নির্বাচন সাত দিন পিছিয়ে ২৭ মে করা হয় এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হয়।
ইউনূস আলী জানান, নিয়ম অনুসারে নির্বাচনের এক মাস আগে ভোটার তালিকা প্রকাশ করতে হবে। ২৭ মে নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও এখনো ভোটার তালিকা চূড়ান্ত হয়নি। এখন নির্বাচন স্থগিত হয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনারস অ্যান্ড বার কাউন্সিল অর্ডার, ১৯৭২ অনুসারে সরকার অ্যাডহক কাউন্সিল গঠন করতে পারবে।