বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সোয়া পাঁচ কোটি টাকা দুর্নীতির দুই মামলায় বাদীর দেয়ার সাক্ষ্য বাতিলের আবেদন নাকচ করে দিয়েছে আদালত।
সোমবার ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আবু আহমেদ জমাদার এ আদেশ দেন।
এসব মামলার শুনানির প্রস্তুতির জন্য খালেদার আইনজীবীদের সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে আগামী ১৮ জুন মামলার পরবর্তী দিন ঠিক করা হয়েছে।
সকাল ১১টার দিকে জিয়া অরফানেজ ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় হাজিরা দিতে আদালত যান খালেদা জিয়া।
রাজধানীর বকশিবাজারে কারা অধিদপ্তরের প্যারেড মাঠে স্থাপিত তৃতীয় বিশেষ জজ আবু আহমেদ জমাদারের অস্থায়ী আদালতে শুনানি চলে।
সাড়ে ১১টার দিকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বাদির সাক্ষ্যগ্রহণ বাতিল চেয়ে খালেদা জিয়ার আইনজীবীর করা আবেদনের ওপর শুনানি হয়।
জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার প্রথম সাক্ষী হিসাবে জবানবন্দি দেন মামলার বাদী দুদক কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ।
আর জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় তার সাক্ষ্য শেষে আগেই জেরা শুরু হয়। তবে দুই মামলার কোনোটিতেই খালেদার আইনজীবীরা বাদীকে জেরা করেননি।
খালেদার আদালতে আসার তারিখ থাকায় ঢাকার বকশিবাজারে আলিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন কারা অধিদপ্তর প্যারেড মাঠে আদালত প্রাঙ্গণ ও আশেপাশের এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও র্যা ব মোতায়েন ছিল।
মামলার কার্যক্রম শেষে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে এজলাস থেকে বেরিয়ে যান তিনি।
খালেদার আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার জানান, তারা আদালতে দুটি আবেদন করেছিলেন।
একটি আবেদনে বলা হয়, আগের কয়েকটি তারিখে খালেদা জিয়া আদালতে না আসায় তিনি সাক্ষ্য শুনতে পারেননি। এ কারণে বাদীর দেয়া সাক্ষ্য বাতিলের আবেদন জানান তারা। বার কাউন্সিল নির্বাচন নিয়ে খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের ব্যস্ততার কথা বলে শুনানিতে অংশ নেয়ার জন্য সময় চাওয়া হয় আরেকটি আবেদনে।
দুদকের পক্ষে এসব আবেদনের বিরোধিতা করেন মোশাররফ হোসেন কাজল।
দুই পক্ষের বক্তব্য শেষে বিচারক প্রথম আবেদনটি খারিজ করে আদেশে বলেন, সাক্ষ্য বাতিলের সুযোগ নেই।
সময়ের আবেদনের বিষয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনের কাজে ব্যস্ত থাকাটা যৌক্তিক। প্রস্তুতির জন্য সময় দেয়া যেতে পারে। তবে হাইকোর্টে যাবেন, সেজন্য সময় দিতে পারব না। পরে ১৮ জুন মামলার পরবর্তী দিন ধার্য করে দেন বিচারক।
কয়েকটি ধার্য দিনে আদালতে না আসায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদার বিরুদ্ধে এ দুই মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল আদালত।
গত ৫ মে তিনি সাক্ষ্যগ্রহণে গরহাজির থাকায় বিচারক ২৫ মে খালেদাকে অবশ্যই আদালতে হাজির করতে আইনজীবীদের নির্দেশ দেন।
এর আগে গত ৫ মে এই মামলার বাদী ও প্রথম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন দুর্নীতি দমন কমিশন –দুদকের উপপরিচালক হারুন অর রশিদ।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা জিয়া চ্যারিটেবল ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ২৫ মে দিন ধার্য করেছিল আদালত।