মানবতাবিরোধী অপরাধে আলবদর কমান্ডার আলী আহসান মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিলে আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছে।
মঙ্গলবার বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চে যুক্তিতর্ক শুনানি চলে। রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন বুধবার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে।
বিগত ২০১৩ সালের ১১ আগস্ট আপিল করেন আল-বদর কমান্ডার ও বর্তমানে জামাত নেতা আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ।
তার আইনজীবী তাজুল ইসলাম সুপ্রিকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপিলটি দায়ের করেন। এদিকে, এ মামলায় আপিল না করার কথা জানিয়েছিল রাষ্ট্রপক্ষ।
ওই সময় তাজুল ইসলাম জানান, মোট ৩ হাজার ৮০০ পৃষ্ঠার আপিল আবেদনের মধ্যে মূল আপিল ৯৫ পৃষ্ঠার। আপিলে ১১৫টি যুক্তিতে খালাস চাওয়া হয়েছে।
ওই বছর ১৭ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মুজাহিদের বিরুদ্ধে আনা ৭টি আভিযোগের ৫টিই সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় রায়ে এর ৩টিতেই ফাঁসির দণ্ড দেয়া হয়। বাকি ২টিতে পাঁচ বছর ও যাবজ্জীবন এবং অন্য দুটি অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয় তাকে।
তবে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হওয়ায় সেটাই কার্যকর করার কথা বলা হয় সে রায়ে। আইন অনুযায়ী এর ৩০ দিনের মধ্যেই প্রমাণ হওয়া ৫টি অভিযোগ চ্যালেঞ্জ করে আপিল করেন মুজাহিদ।
এছাড়া রায়ের মন্তব্যে অপরাধ সংগঠনকারী সংগঠন হিসেবে জামাতকে চিহ্নিত করায় সেটির বিরুদ্ধেও আপিল আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানান জামাতের এ আইনজীবী।
এদিকে, এ মামলায় সর্বোচ্চ শাস্তি হয়ে যাওয়ায় রাষ্ট্রপক্ষ আর আপিল করছে না বলে জানায় রাষ্ট্রপক্ষ।
উল্লেখ্য, ওই বছর ১৭ জুলাই মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের মামলায় মুজাহিদকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়ে রায় করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। তার বিরুদ্ধে বুদ্ধিজীবী হত্যা, গণহত্যা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, দেশান্তরে বাধ্য করাসহ মানবতাবিরোধী ৭টি অভিযোগের মধ্যে পাঁচটি প্রমাণিত হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল এ রায় দেয়।