ক্ষমতাসীন দল থেকে অপসারিত আবদুল লতিফ সিদ্দিকী বুধবার হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে করা ৭টি মামলায় ৬ মাসের জামিন পেয়েছেন তিনি। পাশাপাশি সব মামলার কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।
গতবছর ২৫ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হয়। ওইদিন দুপুরে লতিফ সিদ্দিকীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন ঢাকার মহানগর হাকিম আতিকুর রহমান।
ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অভিযোগে লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে ঢাকা ও দেশের ১৮টি জেলায় ২২টি মামলা রয়েছে। নির্ধারিত সময়ে আদালতে হাজির না হওয়ায় প্রতিটি মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
গত ২ অক্টোবর আইনজীবী আবেদ রেজার করা মামলায় লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। তবে তার পক্ষ থেকে জামিনের আবেদন করা হয়নি।
লতিফ সিদ্দিকীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ হয়।
দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডি থানায় লতিফ সিদ্দিকী আত্মসমর্পণ করেন। পরে তাকে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে পাঠানো হয়।
ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) হেলাল উদ্দিন ওই সময় সাংবাদিকদের বলেন, দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটে থানায় আসেন লতিফ সিদ্দিকী। তাকে তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে পাঠানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত: কলকাতা থেকে ঢাকায় ফেরার পর অজ্ঞাত স্থানে চলে যান লতিফ সিদ্দিকী। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকলেও বিমানবন্দরে তাকে গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ। তাকে গ্রেপ্তার করা না-করা নিয়ে জনগণ ও সরকারের মধ্যে একধরনের অস্বস্তি দেখা দেয়।
লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তারের দাবিতে হেফাজতে ইসলামসহ ধর্মভিত্তিক কয়েকটি সংগঠন হরতালসহ কঠোর কর্মসূচির হুমকি দেয়। সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় তার সদস্যপদ বাতিল ও গ্রেপ্তারের দাবি ওঠে।
উল্লেখ, ২৮ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে এক অনুষ্ঠানে পবিত্র হজ ও তাবলিগ জামাত এবং প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করায় মন্ত্রিসভা ও দল থেকে অপসারিত হন লতিফ সিদ্দিকী।