একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে কিশোরগঞ্জের পলাতক ‘রাজাকার কমান্ডার’ সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান আলীকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। মঙ্গলবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১ এ রায় দেন।
মৃত্যুদণ্ডের একাধিক আদেশ দেয়া হলেও এবারই প্রথম ফাঁসি বা ফায়ারিং স্কোয়াডে দণ্ড কার্যকরের নির্দেশ দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।
এর আগে সকাল সোয়া ১১টার দিকে ১২৫ পৃষ্ঠার সংক্ষিপ্ত রায় পড়া শুরু করা হয়। পড়া শেষ হয় দুপুর সোয়া ১২টার দিকে।
মুক্তিযুদ্ধের সময় কিশোরগঞ্জে হত্যা, অপহরণ, আটক, লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগের ৬টি অভিযোগের মধ্যে হাসান আলী আলীর বিরুদ্ধে ৫টি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান আলীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর মধ্যে ৩ ও ৪ নম্বর প্রমাণিত হওয়ায় তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। ২, ৫ ও ৬ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়া হয়।
তবে ১ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ওই অভিযোগ থেকে হাসান আলীরকে খালাস দেয় ট্রাইব্যুনাল।
গত বছর ১১ নভেম্বর গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের ছয়টি অভিযোগে হাসান আলীর বিচার শুরু হয়। ৮ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রপক্ষে ২৬ জন সাক্ষ্য দেন।
পরে গত বছরের ৩ এপ্রিল হাসান আলীকে গ্রেপ্তারের জন্য ট্রাইব্যুনাল পরোয়ানা জারি করেন। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করতে না পারায় পলাতক ঘোষণা করে তার বিচার করেন ট্রাইব্যুনাল।
এদিকে, একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধী রাজাকার কমান্ডার সৈয়দ হাসান আলীর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন নিজ এলাকা কিশোরগঞ্জের তাড়াইলের বাসিন্দারা। ৪৩ বছর ধরে নির্যাতনের দুঃসহ স্মৃতি আর স্বজন হারানোর ব্যথা বয়ে চলেছেন তারা।
রায় ঘোষণার পরপরই মুক্তিযোদ্ধা সংসদ জেলা ইউনিট কমান্ডের উদ্যোগে বের হয় আনন্দ মিছিল। মুক্তিযোদ্ধা ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ যোগ দেন এতে।
এ সময় দ্রুত পলাতক হাসান আলীকে আটক করে রায় কার্যকরের দাবি জানান এলাবাসিরা। পরে একে অপরকে মিষ্টি মুখ করান তারা।