রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র পদ থেকে মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলকে সাময়িক বরখাস্ত করে আদেশ জারি করে স্থানীয় সরকার বিভাগ। ওই আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে যান তিনি।
রোববার তাকে মেয়র পদ থেকে বরখাস্তের আদেশ বহাল রেখেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। ফলে মেয়র পদ থেকে আপাতত বরখাস্তই থাকছেন বিএনপির এ নেতা।
প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বেঞ্চ চেম্বার আদালতের আদেশ বহাল রেখেছে।
মেয়র বুলবুলের বিরুদ্ধে ৫টি মামলায় বিচারিক আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করায় গত ৭মে তাকে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
গত ২৮ মে তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ সাময়িক বরখাস্তের এ আদেশ স্থগিত করে।
পাশাপাশি স্থানীয় সরকার বিভাগের আদেশ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে।
হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন করলে চেম্বার বিচারপতির আদালত ৪ জুন হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে শুনানির জন্য বিষয়টি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়ে দেয়।
তার আইনজীবী আমিনুল হক হেলাল বলেন, চেম্বার আদালতের স্থগিতাদেশ অব্যাহত রেখে আবেদনটি নিষ্পত্তি করে দিয়েছে আপিল বিভাগ। এখন হাইকোর্টে মামলাটির শুনানি হবে।
এদিকে, বুলবুল মেয়র পদ থেকে বরখাস্ত হওয়ার পর গত ৩১ মে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নিজাম উল আযীমকে ভারপ্রাপ্ত মেয়র পদে নিয়োগ দেয় সরকার।
উল্লেখ, ২০১৩ সালের ১৫ জানুয়ারি রাজশাহী মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন। এরপর নভেম্বর মাসেই সরকারবিরোধী আন্দোলন শুরু হলে একজন পুলিশ সদস্য নিহত হন।
বিএনপিসহ বিরোধী জোটের টানা অবরোধের মধ্যে গত ২৩ জানুয়ারি রাত সাড়ে ১২টার দিকে নগরের মতিহার থানার কাপাশিয়া এলাকায় ঢাকাগামী গাড়িবহরে পেট্রলবোমা হামলা হয়। এর আগে ২২ জানুয়ারি দুপুরে নগরের কাদিরগঞ্জ ট্রাকের বহরে হামলা এবং ১৯ জানুয়ারি নগরের ভদ্রা এলাকায় যাত্রীবাহী একটি বাসে পেট্রলবোমা হামলার অভিযোগের দায়ের করা মামলায় মেয়রকে আসামি করা করা হয়। এরপর থেকে মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন আত্মগোপনে চলে যান। সিটি করপোরেশনে নিজ কার্যালয়েও আসেননি। তবে তিনি আত্মগোপনে থেকে কিছু কিছু নথিতে সই করেছেন।
রাজশাহী মহানগর পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহীর মেয়রের নামে পুলিশ কনস্টেবল সিদ্ধার্থ চন্দ্র সরকারকে হত্যা, পুলিশের ওপর হামলাসহ ১১টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে গত বছর ২৯ সেপ্টেম্বর পুলিশ কনস্টেবল সিদ্ধার্থ হত্যা মামলা ও গত ৪ ফেব্রুয়ারি বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) ওপর হামলার ঘটনায় পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। পরে আরও তিনটি মামলায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। আদালতে মামলার অভিযোগপত্র গৃহীত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে মেয়রকে বরখাস্ত করার জন্য সুপারিশ করা হয়।