মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ড বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের শুনানি মঙ্গলবার শুরু হয়েছে।
প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে চার বিচারপতির বেঞ্চে এ আপিল শুনানি শুরু হয়েছে।
বেঞ্চের অন্য বিচারপতিরা হলেন- বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।
প্রথমে শুনানি করছে আসামিপক্ষ। ট্রাইব্যুনালের রায় ও রায় সংক্রান্ত নথিপত্র (পেপারবুক) পাঠ শুরু করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী এস এম শাহজাহান। রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত রয়েছেন এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
জামাতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের চূড়ান্ত রায়ে মৃত্যুদন্ড বহাল রাখার পর পরই আজ শুরু হলো আপিল বিভাগে আসা ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে পঞ্চম আপিল মামলার শুনানি। মুজাহিদের আপিল মামলাটি হলো চতুর্থ মামলা যা আপিলে নিষ্পত্তি হলো। এর আগে আরো তিনটি মামলা আপিলে নিষ্পত্তি হয়েছে।
সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আপিল আবেদনটি আজ সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের কার্যতালিকার ৬ নম্বর আইটেম হিসেবে শুনানির জন্য রাখা হয়। সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড জয়নাল আবেদীন ২০১৩ সালের ২৯ অক্টোবর এ আপিল দায়ের করেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ট্রাইব্যুনালে যে সব অভিযোগে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে দণ্ড দেয়া হয়েছে আপিলে সে সব অভিযোগ থেকে খালাসের আর্জি জানানো হয়েছে।
অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, এ রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করেনি। তবে আপিলে আসামিপক্ষের শুনানির সময় রায় বহাল রাখার পক্ষে আর্জি পেশ করে যুক্তি উপস্থাপন করবে রাষ্ট্রপক্ষ।
২০১৩ সালের ১অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল -১এর তৎকালীন চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল সাকা চৌধুরীকে মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ড দিয়ে রায় দেয়। রায়ে বলা হয়, সাকা চৌধুরীর বিরুদ্ধে আনীত ২৩টি অভিযোগের মধ্যে ৯টি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে প্রসিকিউশন।
এর মধ্যে ৩,৫,৬ ও ৮ নং অভিযোগের প্রতিটিতে তাকে মৃত্যুদণ্ড. ২,৪ ও ৭নং অভিযোগের প্রতিটিতে তাকে ২০ বছর করে জেল এবং ১৭ ও ১৮ নং অভিযোগে তাকে ৫ বছর করে জেল দিয়ে রায় ঘোষণা করেছে ট্রাইব্যুনাল-১।
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২০১২ সালের ৪ এপ্রিল তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ২৩টি অভিযোগে চার্জ গঠন করা হয়। সাকা চৌধুরীকে ২০১০ সালের ১৫ ডিসেম্বর রাতে হরতালে গাড়ী পোড়ানো ও ভাঙচুরের এক মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তের স্বার্থে এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওই বছরের ১৯ ডিসেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।