গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও নাশকতার ৩ মামলায় হাইকোর্ট থেকে অন্তর্বর্তী জামিন পেয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
রোববার বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি মো. খসরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ পল্টন থানার মামলায় মির্জা ফখরুলের অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর করেছে।
একই সঙ্গে এ তিন মামলায় কেন তাকে জামিন দেয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে পাশাপাশি চার সপ্তাহের মধ্যে ঢাকার জেলা প্রশাসককে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এর ফলে কারাগার থেকে মির্জা ফখরুলের মুক্তি পেতে আর বাধা থাকল না।
আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী জয়নুল আবেদীন তার সঙ্গে ছিলেন রাগীব রউফ চৌধুরী ও সগির হোসেন।
রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফজলুর রহমান খান ও সহকারি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আলী জিন্নাহ।
মির্জা ফখরুলের আরেক আইনজীবী একেএম এহসানুর রহমান জানান, ৫ জানুয়ারি ও এর পরবর্তী সময়ে মির্জা ফখরুলকে নতুন করে সাতটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এর সবগুলোতেই ঊচ্চ আদালত জামিন মঞ্জুর করে। ফলে এখন তার কারামুক্তিতে আইনগত বাধা নেই।
এই আইনজীবী আরো জানান, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তিনি (মির্জা ফখরুল) জামিনে থাকবেন।
এর আগে কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে আদালতের নির্দেশে ১৩ জুন মির্জা ফখরুলকে কাশিমপুর কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
গত ৫ জানুয়ারি ‘একতরফা’ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বর্ষপূর্তি ঘিরে কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোট। এ নিয়ে রাজধানীর পল্টন ও মতিঝিল এলাকাসহ নানা জায়গায় গাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগসহ নাশকতার ঘটনা ঘটে। এ সময় পল্টন ও মতিঝিল থানায় মির্জা ফখরুলসহ বিএনপি-জামাতের অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করা হয়।
উল্লেখ, গত ৬ জানুয়ারি জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন শেষে বের হওয়ার সময় গ্রেপ্তার হন ফখরুল। এরপর পল্টন থানায় নাশকতার ৬টি ও মতিঝিল থানার একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গত ১৬ এপ্রিল পল্টন থানার এক মামলায় তিনি হাইকোর্ট থেকে জামিন পান। এরপর ১৮ জুন পল্টন থানার দুটি ও মতিঝিল থানার একটি মামলায় জামিন পান। আজ- রোববার তিনি পল্টন থানার বাকি তিনটি মামলায় জামিন পেলেন।