বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নতুন করে মেডিকেল বোর্ড গঠনের আদেশ দিয়েছে আদালত। বৃহস্পতিবার সকালে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যের পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
প্রাপ্ত মেডিকেল রিপোর্টে বলা হয়েছে, মির্জা ফখরুলের যে শারীরিক সমস্যা রয়েছে তা দেশে সারানোই সম্ভব, দেশের বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন নেই।
শুনানিতে রাষ্ট্র পক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও মির্জা ফখরুলের পক্ষে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন।
আগামী ১২ জুলাই আদালতে মেডিকেল রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। ১৩ জুলাই এ বিষয়ে আদেশ দেয়া হবে।
আদালতের নির্দেশ অনুসারে ০৮ জুলাই মেডিকেল রিপোর্ট এলে রাজধানীর পল্টন থানায় দায়ের করা নাশকতার তিন মামলায় মির্জা ফখরুল ইসলামের জামিনের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ আদেশ দেয়ার কথা ছিল।
গত ৫ জুলাই মির্জা ফখরুল ইসলামের মেডিকেল রিপোর্ট চেয়েছিলেন আপিল বিভাগ। তবে ৮ জুলাই দুপুর পর্যন্ত মেডিকেল রিপোর্ট আসেনি বলে আদালতকে অবহিত করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
গত ২ জুলাই শুনানি শেষে ফখরুলের জামিন বিষয়ে আদেশের জন্য ৫ জুলাই দিন ধার্য করেন আপিল বিভাগ। তবে ওই দিন আদেশ না দিয়ে ৮ জুলাই আদেশের দিন ধার্য করে মেডিকেল রিপোর্ট দাখিল করতে বলেন।
গত ২১ জুন এ তিন মামলায় ফখরুলকে জামিন দেন বিচারপতি মো. রেজা-উল হক ও বিচারপতি মো. খসরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ। গত ২৯ জুন জামিন স্থগিত চেয়ে আবেদনটি করেন রাষ্ট্রপক্ষ। পরে সেটি পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর আদালত।
নাশকতার কাজে উস্কানি, প্ররোচনা ও পরিকল্পনা অনুযায়ী পল্টন এলাকায় হরতালের মধ্যে গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় গত ৪ ও ৬ জানুয়ারি এসব মামলা দায়ের করে পল্টন থানা পুলিশ।
গত ৬ জানুয়ারি জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে মির্জা ফখরুলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বর্তমানে তিনি আদালতের নির্দেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের প্রিজন সেলে কারাবন্দি অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
এদিকে, পল্টন থানার দু’টি ও মতিঝিল থানার একটিসহ নাশকতার অপর তিন মামলায় মির্জা ফখরুলকে দেওয়া হাইকোর্টের জামিন গত ২৮ জুন বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। এর ফলে সবগুলো মামলায়ই জামিন পেলেও পল্টন থানার তিন মামলায় জামিন স্থগিতে রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন করায় তার মুক্তি আটকে যায় বলে জানান আইনজীবীরা।
শুনানিতে রাষ্ট্র পক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও মির্জা ফখরুলের পক্ষে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন।