মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর আপিলের রায় বুধবার। চট্টগ্রামের হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা থেকে নিরীহ মানুষদের ধরে অমানবিক নির্যাতনের অন্যতম হোতা ছিলেন এ যুদ্ধাপরাধী।
গুডস্ হিল নামে পরিচিত এ বাড়িটি ১৯৭১ এ ছিল মুক্তিকামী বাঙালির জন্য আতংকের নাম। চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা বিশেষ করে হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা থেকে নিরীহ মানুষদের ধরে এনে অমানবিক নির্যাতন করা হতো এখানে।
বাড়িটি পৈত্রিক সূত্রে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর। কোন দল বা সহযোগী সংগঠনের হয়ে নয়, একাই বাঙালির স্বাধীনতার বিরুদ্ধে গিয়ে পাকিস্তানিদের সহায়তা করেছেন সাকা চৌধুরী। মেতে উঠেছিলেন হত্যার হোলিখেলায়।
২০১৩ সালের ১ অক্টোবর সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরির বিরুদ্ধে আনা মানবতাবিরোধী অপরাধের ২৩টি অভিযোগের ৯টিই সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ হওয়ায় তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয় আর্ন্তজাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
এর মধ্যে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয় ৪টি অভিযোগে। সেগুলো হলো:
১. কুন্ডেশ্বরী ঔষধালয়ের প্রতিষ্ঠাতা নূতন চন্দ্র সিংহ হত্যা,
২. সুলতানপুরের নেপাল চন্দ্র ও আরো ৩ জনকে হত্যা,
৩. উনসত্তরপাড়ায় ৭০ জনকে হত্যা,
৪. চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ মোজাফফর হোসেন ও তার ছেলে শেখ আলমগীরকে নির্যাতন ও হত্যা।
এছাড়াও মধ্যগহিরার গণহত্যা, জগৎমাল্লপাড়ার গণহত্যা ও সতিশ চন্দ্র পালিতকে হত্যার অভিযোগে দেয়া হয়েছে ২০ বছর করে কারাদণ্ড। আর মুক্তিযুদ্ধের ৩ সংগঠককে অপহরণ, আটক, নির্যাতন এবং সালেহ্উদ্দিনকে অপহরণের দায়ে তাকে দেয়া হয় ৫ বছর করে কারাদণ্ড।
খালাস দেয়া হয় ৮টি অভিযোগ থেকে আর বাকি ৬টি অভিযোগে রাষ্ট্রপক্ষ সাক্ষ্যপ্রমাণ হাজির না করতে না পারায় সেগুলো রায়ের জন্য বিবেচনায়ই নেয়নি ট্রাইব্যুনাল।
এ রায়ের বিরুদ্ধে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী আপিল করলে ১৬ জুন ট্রাইব্যুনালের দেয়া রায়ের নথিপত্র পাঠের মধ্যে দিয়ে শুরু হয় আপিল শুনানি। ১৩ কার্যদিবসে দুইপক্ষের শুনানি শেষে ২৯ জুলাই রায়ের দিন ধার্য করে আপিল বিভাগ।
এরপর শুরু হবে আল বদর বাহিনীর প্রধান মতিউর রহমান নিজামী ও চট্টগ্রামের বদর প্রধান মীর কাসেম আলীর আপিলের শুনানি।