আপিল বিভাগে যুদ্ধাপরাধী সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর চূড়ান্ত রায়কে ঘিরে বিচারকদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নিবন্ধ প্রকাশ করায় দৈনিক জনকন্ঠের সম্পাদক ও নির্বাহী সম্পাদককে তলব করেছে আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে মামলা চলাকালে বিভিন্ন মন্তব্যের কারণে গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে চেয়েছে।
প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ সাকা চৌধুরীর ফাঁসির আদেশ বহাল রাখার রায় দিয়ে স্বপ্রণোদিত হয়ে এ রুল জারি করেছে।
গত ১৬ জুলাই দৈনিক জনকন্ঠে, একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আপিল বিভাগে চূড়ান্ত রায় নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে একটি নিবন্ধ প্রকাশ করা হয়। ওই নিবন্ধে বিচারকদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। বলা হয়, বিচারকাজে সংশ্লিষ্ট একজন বিচারপতির সঙ্গে দেখা করেছে সাকা চৌধুরীর পরিবারের সদস্যরা।
বুধবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ৪ সদস্যের আপিল বেঞ্চ চূড়ান্ত রায়েও সালাউদ্দিন কাদেরের ফাঁসির আদেশ বহাল রাখার পাশাপাশি স্বপ্রণোদিত হয়ে একটি রুলও জারি করেন।
রুলে, ওই নিবন্ধের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে জনকন্ঠের সম্পাদক আতিকুল্লাহ খান মাসুদ ও নিবন্ধের লেখক স্বদেশ রায়কে আগামী ৩ আগস্ট আদালতে হাজির হতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি এ রুলে মামলা চলাকালীন সময়ে বিভিন্ন মন্তব্য করায় গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে।
এদিকে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা ও আইনজীবীরা বলেন, আপিল বিভাগের চূড়ান্ত রায় নিয়ে অনেকে সংশয় প্রকাশ করলেও, সাকা চৌধুরীর অপরাধ বিবেচনায় সর্বোচ্চ শাস্তির রায় নিয়ে কোনো সংশয় ছিলো না।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ বলেন, আপিল বিভাগের এই রায়ের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে অপরাধ করে কেউ পার পাবে না।