মাদারীপুরে দুই স্কুলছাত্রী হত্যা মামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার শিপন, রফিক ও রকিবকে ৭ দিন করে পুলিশ রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। শনিবার মাদারীপুরের ভারপ্রাপ্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম মুহাম্মদ জাকারিয়ার আদালত এ আদেশ দেন।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক শাহজাহান মিয়া তিন আসামি রকিব শিকদার, শিপন শিকদার ও রফিক শিকদারকে আদালতে হাজির করে ১০ দিন করে রিমান্ডের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের সাত দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করে।
শুক্রবার দুপুরে নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে সুমাইয়ার শরীরে আঘাতের কয়েকটি চিহ্ন রয়েছে বলে জানান হাসপাতালের চিকিৎসক।
দুই কিশোরীর মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে হাসাপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সুমাইয়ার গলা, হাত ও পায়ের আঙুলে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তবে হ্যাপির শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
এদিকে, শুরু থেকেই দুই স্কুল ছাত্রীকে অপহরণের পর নির্যাতন করে ও বিষ খাইয়ে হত্যার অভিযোগ তুলেছে নিহতদের পরিবার।
এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যকে সুমাইয়ার বাবা জানিয়েছেন, আটক হওয়া ওই দুই যুবক সুমাইয়াকে প্রায়ই বিরক্ত করতো। তার পরিবারের অভিযোগ ধর্ষণের পর মুখে বিষ ঢেলে সুমাইয়াকে হত্যা করা হয়েছে।
একই অভিযোগ হ্যাপির পরিবারেরও।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার বেলা ৩টার দিকে মাদারীপুরের সুমাইয়া ও হ্যাপি কোচিং করতে বাড়ি থেকে এক কিলোমিটার দূরে স্কুলের উদ্দেশে বের হয়।
পরে বিকেল ৪টা থেকে সোয়া ৪টার মধ্যে ১৮ থেকে ২২ বছর বয়সী ৪ জন যুবক তাদের অচেতন অবস্থায় মাদারীপুর সদর হাসপাতালে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের জিজ্ঞাসা করলে তারা জানান, সুমাইয়া ও হ্যাপি বিষ পান করেছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রাথমিক চিকিৎসা শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যে বিকেল পৌঁনে ৫টার দিকে হ্যাপি মারা গেলে ওই চার যুবক হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যায়। এরপর সেখানে শিপন শিকদার ও রফিক শিকদার নামে দুই যুবক এলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের আটক করে পুলিশে দেয়।
পরে সন্ধ্যার দিকে অপর বোন সুমাইয়াও মারা যায়। খবর পেয়ে তাদের আত্মীয়রা হাসপাতালে আসেন।
এদিকে, সারাদেশে গত ১৪ দিনে ধর্ষণের পর খুন হয়েছে ৬ জন। এছাড়া ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৩৭৮ জন নারী ও শিশু।