তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে দায়ের করা মামলায় অনলাইন পত্রিকা উত্তরাধিকার ৭১ নিউজ ও দৈনিক বাংলা ৭১ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক প্রবীর সিকদারকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।
ফরিদপুরের আইনজীবী স্বপন কুমার পালের করা ওই মামলায় ১০ দিনের জন্য হেফাজতে চেয়ে সন্ত্রাসীদের হামলায় প্রবীর সিকদারকে সোমবার বিকেলে আদালতে নেয় পুলিশ।
বিচার বিভাগীয় হাকিম মো. হামিদুল ইসলাম পুলিশের ওই আবেদনের শুনানির জন্য মঙ্গলবার দিন ঠিক করে প্রবীর সিকদারকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এর আগে রোববার রাতে ঢাকার পত্রিকা অফিস থেকে গোয়েন্দা পুলিশ তাকে নিয়ে যায়। সম্প্রতি প্রবীর সিকদার ফেইসবুকে দেয়া একটি স্ট্যাটাসে নিজের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন দাবি করে এরজন্য স্থানীয় সরকারমন্ত্রীসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেন।
পরে ফরিদপুরে তার বিরুদ্ধে মামলা হয় এবং ওইদিন সন্ধ্যায় তাকে ঢাকার অফিস থেকে তুলে নিয়ে যায় গোয়েন্দা পুলিশ।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরব সাংবাদিক প্রবীর সিকদার কিছু দিন ধরেই প্রাণনাশের হুমকি পাচ্ছিলেন। এ বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে গেলেও তাকে ফিরিয়ে দেয় পুলিশ।
এরপর গত ১০ আগষ্ট ফেইসবুকে একটি স্ট্যাটাসে নিজের জীবন শঙ্কার কথা জানিয়ে লেখেন, তার মৃত্যু হলে এলজিআরডি মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মুসা বিন শমসের ও ফাঁসির দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী বাচ্চু রাজাকার ওরফে আবুল কালাম আজাদ এবং তাদের সহযোগীরা দায়ী থাকবে।
এ ঘটনায় রোববার বিকেলে ফরিদপুরে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা এপিপি এ্যাডভোকেট স্বপন পাল বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশারফ হোসেনের সুনাম ক্ষুন্ন হয়েছে বলে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে দায়ের ওই মামলায় উল্লেখ করা হয়।
ওইদিনই সন্ধ্যায় গোয়েন্দা পুলিশ সাংবাদিক প্রবীরকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে তার ঢাকা অফিস থেকে তুলে নিয়ে যায়। রাতেই তাকে ফরিদপুরে পাঠিয়ে দেয়া হয়া।
এদিকে, প্রবীর সিকদারের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে সমালোচনার ঝড় উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। বিক্ষুদ্ধ সাংবাদিক সমাজের ব্যানারে হয়েছে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানবন্ধন। প্রতিবাদ সমাবেশে উপস্থিত ছিলে প্রবীর সিকদারের স্ত্রী ও দুই ছেলে।
মুক্তিযুদ্ধে বাবাসহ প্রবীর সিকদারের পরিবারের ১৪ জন শহীদ হন। ২০০১ সালে দৈনিক জনকন্ঠের ফরিদপুরের নিজস্ব সংবাদদাতা থাকাকালে পত্রিকায় প্রকাশিত 'সেই রাজাকার' কলামে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মুসা বিন শমসেরের বিতর্কিত ভূমিকার বিবরণ তুলে ধরেন তিনি।
এরপর ২০১০ সালের ২০ এপ্রিল সন্ত্রাসী হামলায় গুরুত্বর আহত হন। তার অভিযোগ হামলাটি মুসা বিন শমসেরের ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা করেছিলো। ওই হামলায় একটি পা হারিয়ে একরকম পঙ্গু জীবন যাপন করছিলেন অনলাইন পত্রিকা উত্তরাধিকার ৭১ নিউজ ও দৈনিক বাংলা ৭১ পত্রিকার সম্পাদক প্রবীর সিকদার।