মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মীর কাসেম আলীর আপিলের সারসংক্ষেপ আগামী ২ সপ্তাহের মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষকে জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে আপিল বিভাগ। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।
অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এ মামলার সার সংক্ষেপ জমা দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রপক্ষে সময়ের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করে।
এর আগের, গত ২৮ মে মীর কাসেমের আপিলের সারসংক্ষেপ চার সপ্তাহের মধ্যে দাখিলের জন্য রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষকে নির্দেশ দেয় আপিল বিভাগ। এরপর আসামিপক্ষ নির্ধারিত সময়ে সারসংক্ষেপ জমা দেয়।
গত বছরের মানবতাবিরোধী অপরাধে ২ নভেম্বর মীর কাসেম আলীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। এ রায়ের বিরুদ্ধে ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মীর কাসেম আলী আপিল করেন। ১৫০ পৃষ্ঠার মূল আবেদন ও এক হাজার ৭৫০ পৃষ্ঠার নথিপত্রসহ করা আপিলে মীর কাসেম সাজা বাতিল চেয়ে খালাস চেয়েছেন।
চলতি বছর ২৮ মে আপিল বিভাগ আপিলের সার-সংক্ষেপ দাখিল করতে দুই পক্ষকে সময় বেধে বেঁধে দিয়েছিল।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধীতাকারী জামাত নেতা মীর কাসেম ১৯৭১ সালে দলটির ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘের চট্টগ্রাম শহর শাখার সভাপতি ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি ছিলেন কুখ্যাত গুপ্তঘাতক আলবদর বাহিনীর চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রধান।
মীর কাসেমের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধকালে চট্টগ্রাম শহরের আন্দরকিল্লা এলাকার ডালিম হোটেলে স্থাপিত হয় আলবদর বাহিনীর ক্যাম্প ও নির্যাতনকেন্দ্র। এ হোটেলকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হতো সব ধরণের মানবতাবিরোধী অপরাধ, যার তত্ত্বাবধানে ছিলেন মীর কাসেম। এ হোটেল মানুষের কাছে পরিচিতি পায় হত্যাপুরী হিসেবে আর নৃশংসতার জন্য মীর কাসেমের পরিচয় হয় ‘বাঙালি খান’।