তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার সাংবাদিক প্রবীর সিকদারের জামিন মঞ্জুর করেছে আদালত।
বুধবার সকালে প্রবীর সিকদারকে ফরিদপুরের এক নম্বর আমলি আদালতে হাজিরের পর বিচারক হামিদুল ইসলাম তার জামিন মঞ্জুর করেন।
এর আগে পুলিশের আবেদন মঞ্জুর করে মঙ্গলবার তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। শুনানি শেষে প্রবীর সিকদারকে জেলহাজতে পাঠানো হয়। মামলার পরবর্তী তারিখ রাখা হয়েছিল ২২ আগস্ট।
এদিকে, প্রবীণ এ সাংবাদিককে গ্রেপ্তারের ঘটনায় বিভিন্ন মহলে ক্ষোভ বিক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
উল্লেখ, ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ার কারণে গত রোববার সন্ধ্যায় প্রবীর সিকদারকে তার রাজধানীর ইন্দিরা রোডের অনলাইন পত্রিকা অফিস থেকে আটক করে শেরেবাংলা নগর থানার পুলিশ। ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় তার নামে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে একটি মামলা হয়। তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ (২) ধারায় গ্রেপ্তার করে সোমবার ভোরে তাকে ফরিদপুরে নেয়া হয়।
ওইদিন সন্ধ্যা ৬টার দিকে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে তাকে জেলার মুখ্য বিচারিক হাকিমের আদালতে সোপর্দ করে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার পুলিশ। ওই আদালত তাকে ফরিদপুর জেলহাজতে পাঠিয়ে দেন। গতকাল আদালত প্রবীর সিকদারের ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।
প্রবীর সিকদারের বিরুদ্ধে দায় করা মামলার বাদী জেলা জজ আদালতের সহকারী সরকারি কৌঁসুলি স্বপন পাল। মামলার আরজিতে বাদী উল্লেখ করেন, প্রবীর সিকদার গত ১০ আগস্ট তার ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। যার শিরোনাম ছিল ‘আমার জীবনের শঙ্কা তথা মৃত্যুর জন্য যারা দায়ী থাকবেন’।
শিরোনামের নিচে তাঁর মৃত্যুর জন্য যাঁরা দায়ী থাকবেন—এমন তিনজন ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেছেন। এঁদের মধ্যে এক নম্বরে আছেন এলজিআরডিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম। স্ট্যাটাসটি পড়ে বাদীর দৃঢ়বিশ্বাস হয়েছে, প্রবীর সিকদার ইচ্ছাকৃতভাবে মোশাররফ হোসেন সম্পর্কে অসত্য লেখা লিখে মন্ত্রীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছেন।
লেখাটি জনসমক্ষে প্রকাশের মাধ্যমে উসকানি প্রদান করে শান্তিপ্রিয় মানুষের কাছে মন্ত্রীকে হেয়প্রতিপন্ন করা হয়েছে। এতে মন্ত্রীর মানহানি ঘটেছে। যা একটি ফৌজদারি অপরাধ।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীনতাবিরোধীরা প্রবীর সিকদারের বাবাসহ তার পরিবারের ১৪ জনকে হত্যা করে। ২০০১ সালে জনকণ্ঠ পত্রিকার ফরিদপুর প্রতিনিধি থাকাকালে রাজাকারদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক প্রতিবেদন লেখার পর সন্ত্রাসীদের হামলায় তাকে একটি পা হারাতে হয়। এরপর থেকে তিনি কৃত্রিম পা লাগিয়ে চলাফেরা করছেন। বর্তমানে তিনি দৈনিক বাংলা ৭১, উত্তরাধিকার-৭১ নিউজ অনলাইন পত্রিকা ও উত্তরাধিকার নামের এক ত্রৈমাসিক পত্রিকার সম্পাদক।