অবৈধভাবে বাড়ি দখল ও আত্মসাতের অভিযোগে বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদের বিরুদ্ধে দুদকের মামলার কার্যক্রম আগামী রোববার পর্যন্ত স্থগিত করে ওই সময়ের মধ্যে নিয়মিত ‘লিভ টু আপিল’ এর আদেশ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ।
রোববার প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দিয়েছে।
বিএনপির এ নেতার একটি আবেদন শুনে এ মামলার অভিযোগ আমলে নেয়ার সিদ্ধান্তকে বৈধতা দিয়ে হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছে।
আদালতে নিজের আবেদনের পক্ষে নিজেই শুনানি করেন ব্যারিস্টার মওদুদ আর দুদকের পক্ষে ছিলেন খুরশীদ আলম খান।
প্রসঙ্গত: অবৈধভাবে বাড়ি দখল ও আত্মসাতের অভিযোগে ২০১৩ সালের ১৭ ডিসেম্বর রাজধানীর গুলশান থানায় মওদুদ ও তার ভাই মনজুর আহমদের বিরুদ্ধে দুদক এ মামলা দায়ের করে।
গতবছর ২৬ মে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। ওই বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ আদালতের বিচারক শুনানি শেষে অভিযোগপত্র আমলে নেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, গুলশানের যে বাড়িটিতে মওদুদ আহমদ ও তার পরিবার থাকছেন, তার প্রকৃত মালিক ছিলেন পাকিস্তানি নাগরিক মো. এহসান। ১৯৬০ সালে তৎকালীন ডিআইটির কাছ থেকে এই বাড়ির মালিকানা এহসান ‘লাভ করেন’। ১৯৬৫ সালে বাড়ির মালিকানার কাগজপত্রে এহসানের পাশাপাশি তার স্ত্রী অস্ট্রেলীয় নাগরিক ইনজে মারিয়া প্লাজের নামও অন্তর্ভুক্ত হয়। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে এহসান স্ত্রীসহ ঢাকা ত্যাগ করেন। তারা আর ফিরে না আসায় ১৯৭২ সালে এটি পরিত্যক্ত সম্পত্তির তালিকাভুক্ত হয়।
এরপর ১৯৭৩ সালের ২ আগস্ট মওদুদ তার ইংল্যান্ডপ্রবাসী ভাই মনজুরের নামে একটি ভুয়া আমমোক্তারনামা তৈরি করে বাড়িটি সরকারের কাছ থেকে বরাদ্দ নেন।
অভিযোগ আমলে নেয়ার আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে ফৌজদারি রিভিশন আবেদন করেন মওদুদ। শুনানি নিয়ে গত ৫ মে হাইকোর্ট রুল জারি করে।
রুলে বিচারিক আদালতের ওই আদেশ কেন বাতিল ঘোষণা করা হবে না- তা ১০ দিনের মধ্যে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষকে জানাতে বলা হয়। রুলের ওপর শুনানি শেষে আদালত ২৩ জুন রায়ের দিন ধার্য করে।
ওইদিন হাই কোর্ট আবেদন খারিজ (রুল ডিসচার্জ) করে রায় দিলে মওদুদ আহমদ চেম্বার বিচারপতির আদালতে আবেদন নিয়ে যান। এরপর বিষয়টি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়ে দেয়া হয়।