ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে নিহত কিশোরী ফেলানীর পরিবারকে ৫ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ দিতে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে দেশটির জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। সেইসঙ্গে ৬ সপ্তাহের মধ্যে এই নির্দেশ যে পালন করা হয়েছে- তা অর্থ দেয়ার প্রমাণসহ কমিশনকে জানাতে বলা হয়েছে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণের অর্থ প্রদানের জন্য ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এ নির্দেশ দেয়া হয়।
সোমবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফেলানীর বাবার আইনজীবী ও কুড়িগ্রামের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আব্রাহাম লিঙ্কন।
আব্রাহাম লিংকন বলেন, এর মধ্যে দিয়ে অপরাধীর দায় স্বীকার করা হলো। ক্ষতি পুষিয়ে দেয়ার দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই আর্থিক ক্ষতিপূরণের নির্দেশ তারা দিয়েছে।
বাংলাদেশের আইন ও সালিশ কেন্দ্রের মাধ্যমে গত ৮ জুলাই ভারতের মানবাধিকার সংগঠন সুরক্ষা মঞ্চ-মাসুমের নির্বাহী পরিচালক কিরীটি রায়ের কাছে ভারতের উচ্চ আদালতে ফেলানী হত্যার ন্যায় বিচার চেয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ করে ফেলানীর বাবা নুর ইসলাম। এই ভারতীয় মানবাধিকার সংগঠনটি প্রয়োজনীয় তথ্যাদি সংগ্রহ করে দু'সপ্তাহ আগে সেদেশের সুপ্রিম কোর্টে একটি রিট পিটিশন দাখিল করে।
এতে, ২০১৩ ও ২০১৫ সালের বিএসএফ'র তদন্ত বাতিল করে সিবিআই অথবা নিরপেক্ষ অন্য কোন সংস্থাকে দিয়ে ফেলানী হত্যার পুনঃতদন্তের আবেদন করা হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ১৪ আগস্ট ফেলানী হত্যা মামলাটি আমলে নিয়ে আগামী ৬ অক্টোবর রিটের শুনানির দিন ধার্য করে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট।
এরআগে, ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলারর অনন্তপুর সীমান্তে বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষের গুলিতে নিহত হয় বাংলাদেশি কিশোরী ফেলানী। এ ঘটনার পর বিএসএফ'এর বিশেষ আদালতে অমিয় ঘোষকে অভিযুক্ত করে একটি অভিযোগ গঠন করা হয়। ঘটনার ২ বছর ৮ মাস পর ২০১৩ সলের ৬ সেপ্টেম্বর অভিযুক্ত অমিয় ঘোষকে নির্দোষ বলে রায় দেয় বিএসএফ'এর বিশেষ আদালত। সেই রায় যর্থাথ হয়নি মনে করে রায় পুর্নবিবেচনার আদেশ দেন বিএসএফ মহাপরিচালক। দ্বিতীয় দফায় এ বছরের ২ জুলাই বিএসএফ-এর বিশেষ আদালত অভিযুক্ত অমিয় ঘোষকে পুনরায় নির্দোষ ঘোষণা করে রায় দেয়।