মেডিকেল ভর্তি প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সহকারি পরিচালক ওমর সিরাজসহ তিন জনকে দুই দিনএর রিমান্ড দিয়েছে আদালত।
রোববার শুনানি শেষে মহানগর হাকিম স্নিগ্ধা রাণী চক্রবর্তী ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা থানার এসআই আহাদ আলী আসামিদের আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন।
আসামিদের আইনজীবী হাবিবুর রহমান বাপ্পী আদালতে ওমর সিরাজ, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের স্টোরকিপার রেজাউল করিম ও ঈশান ইমতিয়াজ হৃদয়ের পক্ষে রিমান্ডের বিরোধিতা করেন।
আসামিদের বিরুদ্ধে রিমান্ড আবেদনে জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ আনা হয়েছে তবে তারা মেডিকেলের প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত ছিলেন কি না- সে বিষয়ে কোনো অভিযোগ সেখানে ছিল না।
গত শুক্রবার সারাদেশে মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন কার্যালয় থেকে এ তিন জনকে গ্রেপ্তার করে র্যা ব। ওই দিন রাতেই ওমর সিরাজকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরে একই ব্যবস্থা নেয়া হয় রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় পাবলিক সার্ভিস পরীক্ষা আইন এবং দণ্ডবিধির ১৭৩ ধারায় শেরেবাংলা থানায় মামলা হয়।
র্যা ব সূত্রে জানা গেছে, আসামিদের কাছ থেকে ২০১৪ সালে জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের সহকারি জজ নিয়োগ পরীক্ষার ২৩টি উত্তরপত্র, একই পরীক্ষার দুটি প্রশ্নপত্র, ২ লাখ টাকা ও একটি ব্যাংকের চার লাখ টাকার চেকসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের সিল, বিভিন্ন ব্যাংকের চেক বই, তিনটি মোবাইল ফোন ও একটি আইপ্যাড পাওয়া গেছে।
তদন্ত কমিটি
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি করেছে।
কমিশনের সদস্য অধ্যাপক আবুল হাশেমকে আহ্বায়ক করে গঠিত এ কমিটিতে সদস্য হিসেবে আছেন অ্যধাপক মোহাম্মদ ইউসুফ আলী মোল্লা ও কমিশন সচিব মো. খালেদ।
ইউজিসির যুগ্ম-সচিব (প্রশাসন) মো. ফখরুল ইসলামকে কমিটির সদস্য সচিব করা হয়েছে জানিয়ে রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কমিশন বলেছে, এই কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে হবে।