নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ঘটনায় পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
বুধবার সকালে নারায়ণগঞ্জের জ্যেষ্ঠ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এইচএম শফিকুল ইসলাম এ নির্দেশ দিয়েছে।
পরে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র্যাব) সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ২২ জনকে নিয়মিত হাজিরা শেষে আদালত তাদের কারাগারে প্রেরণ করেছে।
আসামিদের মধ্যে শুধু র্যাবের সাবেক কর্মকর্তা তারেক সাঈদের পক্ষে তার আইনজীবী জামিন আবেদন করলে তা নামঞ্জুর করেছে আদালত।
উল্লেখ, ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ শহরের কাছ থেকে পৌর কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাত জনকে অপহরণ করে র্যাব-১১ এর কতিপয় সদস্যরা। এর তিন দিন পর সাত জনেরই মরদেহ শীতলক্ষ্যা নদীতে পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় আরেক কাউন্সিলর নূর হোসেনকে প্রধান আসামি করে দুটি মামলা করা হয়। অভিযোগ করা হয়, নূর হোসেনের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়ে তার প্রতিপক্ষকে খুন করেছে র্যাব।
মামলার পর পুলিশ র্যাব-১১ এর সাবেক অধিনায়ক তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, কর্মকর্তা মেজর (অব.) আরিফ হোসেন ও লে. কমান্ডার (অব.) এম এম রানাকে গ্রেপ্তার করে। তাঁরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। মামলার আরেক আসামি নূর হোসেন পালিয়ে ভারতে গেলেও সেখানে ধরা পড়েন। তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।
দীর্ঘ ১১ মাস তদন্ত শেষে গত ৮ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামুনুর রশীদ মণ্ডল এ ঘটনায় করা দুটি মামলার অভিযোগপত্র নারায়ণগঞ্জের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম চাঁদনি রূপমের আদালতে দাখিল করেন।
সেখানে মামলায় এজাহারভুক্ত পাঁচ আসামিকে অব্যাহতি দিয়ে কাউন্সিলর নূর হোসেন ও র্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ৩৫ জনকে আসামি করা হয়।
নজরুলের স্ত্রী সেলিনা গত ১১ মে আদালতে ওই অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন করলে আদালত তা খারিজ করে দেয়। পরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আবার নারাজি আবেদনের বিষয়ে রিভিউ পিটিশন করেন তিনি। আগামী ২০ অক্টোবর এর ওপর শুনানি হবে।