সিলেটে শিশু শেখ সামিউল আলম রাজন হত্যা মামলার প্রধান আসামি কামরুল ইসলামকে ফিরিয়ে আনতে পুলিশের তিন কর্মকর্তা ১২ অক্টোবর সৌদি আরব যাচ্ছেন। বুধবার পুলিশ সদর দপ্তরের অনুরোধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
এর আগে দুপুরে মহানগর দায়রা জজের আদালতে এই মামলায় তৃতীয় দিনের মতো সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। রাজনের প্রতিবেশি ইশতিয়াক আহমদ রায়হানসহ ৪ জন আজ আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।
এর আগে দুই দিনে রাজনের বাবা আজিজুর রহমান, মা লুবনা আক্তার, মামলার বাদী এসআই আমিনুল ইসলামসহ ছয় জন এ মামলায় সাক্ষ্য দেন। মামলাটিতে ৩৮ সাক্ষীর মধ্যে এখন পর্যন্ত ১০ জনের সাক্ষ্য নেয়া হয়েছে।
আদালতের নির্দেশে আগামী ৮,১১,১২, ১৩, ১৪ ও ১৫ অক্টোবর এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ চলবে।
উল্লেখ, গত ৮ জুলাই ভোরে ‘চোর’ সন্দেহে শিশু রাজনকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পৈচাশিক নির্যাতনের ভিডিওচিত্র ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয় নির্যাতনকারীরা। প্রায় ২৮ মিনিটের সেই ভিডিও চিত্রটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। নিহত রাজন সদর উপজেলার কান্দিরগাঁও ইউনিয়নের বাদেআলী গ্রামের আজিজুল ইসলামের (আলম) ছেলে। হত্যাকাণ্ডের পর মহানগরীর জালালাবাদ থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) বাদী হয়ে মুহিত আলমসহ অজ্ঞাত ৪/৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
গত ১৬ আগস্ট সৌদি-আরবে আটক কামরুল ইসলামসহ ১৩ আসামিকে অভিযুক্ত করে আদালতে এ হত্যা মামলার চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ইন্সপেক্টর সুরঞ্জিত তালুকদার। এর আগে, মুহিত আলমসহ ৮ জন এ ঘটনায় আদালতে হত্যার দায় স্বীকার আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।
গত ২৪ আগস্ট আদালত এ মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। গত ২৫ আগস্ট জালালাবাদ থানা পুলিশ ৩ পলাতক আসামির মালামাল ক্রোক করে থানায় নিয়ে যান।