শিশু গৃহকর্মী নির্যাতনের মামলায় গ্রেপ্তার ক্রিকেটার শাহাদাত হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের পুলিশ রিমান্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত।
বৃহস্পতিবার ঢাকার মহানগর হাকিম ইউসুফ হোসেন এ আদেশ দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শফিকুর রহমান শাহাদাতকে সাত দিনের রিমান্ডে চেয়ে গত মঙ্গলবার আদালতে আবেদন করেন।
এ বিষয়ে শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার এই ক্রিকেটারকে আদালতে হাজির করার পর আদালত পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের সহকারী কমিশনার মিরাশ উদ্দিন আদালতকে জানায়, সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এবং গৃহকর্মী নির্যাতনের ঘটনায় কে কতটুকু দায়ী তা জানার জন্য আসামিকে রিমান্ডে নেয়া প্রয়োজন।
এদিকে এর বিরোধিতা করে শাহাদাতের পক্ষে জামিনের আবেদন করেন তার আইনজীবী কাজী নজিবুল্যাহ হিরু।
শুনানি শেষে বিচারক তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে শাহাদাতকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন। এ মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে শাহাদাতের স্ত্রী জেসমিন আক্তার নিত্যও বর্তমানে কারাগারে রয়েছে।
গত সোমবার শাহাদাত হোসেনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় আদালত। সকালে ঢাকা মহানগর হাকিম ইউসুফ হোসেনের আদলতে আত্মসমার্পণ করে জামিনের আবেদন করেন তিনি।
পরে শুনানি শেষ জামিন আবেদন নাকচ করে আদালত শাহাদতকে কারাগারে পাঠানোর এ নির্দেশ দেয়।
একই মামলায় তার স্ত্রী জেসমিন জাহানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে পুলিশ ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত তা নাকচ করে জেসমিনকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেয়।
শনিবার গৃহকর্মীকে নির্যাতনের মামলায় শাহাদাতের স্ত্রী নিত্য গ্রেপ্তার করে পুলিশ। শাহাদাতও একই মামলার আসামি—তবে তাকে তখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
গৃহকর্মী মাহফুজা আক্তার ওরফে হ্যাপিকে (১১) নির্যাতনের অভিযোগে গত মাসে শাহাদাত ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মিরপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা সাংবাদিক খন্দকার মোজ্জাম্মেল হক মামলাটি করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ক্রিকেটার কাজী শাহাদাত হোসেনের বাসায় ৭ মাস আগে কাজে যোগ দেয় শিশু মাহফুজা। শাহাদাত ও তার স্ত্রী প্রায়ই তাকে মারধর করত, গরম খুন্তির ছ্যাঁকা দিত।
ঘটনার পর মাহফুজা পুলিশের কাছে জানায়, শাহাদাত ও তার স্ত্রী তাকে মারধর করে আহত করেছে।
একপর্যায়ে দরজা খোলা পেয়ে সে বাসা থেকে বের হয়ে যায় এবং কালশী এলাকায় গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে বলে জানায় সে।
পরে গণমাধ্যমে এ নিয়ে খবর প্রকাশের পর মাহফুজাকে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে শাহাদাত ও তার স্ত্রী।
মারাত্মক আহত গৃহকর্মী হ্যাপী বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) চিকিৎসাধীন। পাঁচ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করে তার চিকিৎসা চলছে।
গত ৬ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে কালশী থেকে নির্যাতনে মারাত্মক আহত অবস্থায় মাহফুজা আক্তার হ্যাপী (১১) নামের ওই গৃহকর্মীকে উদ্ধার করে পল্লবী থানা পুলিশ। ওই দিন শাহাদত ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে গৃহকর্মী নির্যাতনের এ মামলা হয়। তবে ওই দিন বিকেলে শাহাদাত মিরপুর থানায় তার বাসার গৃহকর্মী হারিয়েছে বলে একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।