জাপানি নাগরিক হোসি কোনিও হত্যাকাণ্ডটি স্পর্শকাতর—উল্লেখ করে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি রংপুর পুলিশ রেঞ্জের ভারপ্রাপ্ত উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) হুমায়ুন কবীর। শনিবার বেলা সোয়া ১টার দিকে নিজ সম্মেলনকক্ষে সাংবাদিকদে তিনি এ কথা বলেন।
হুমায়ুন কবীর বলেন, হত্যাকাণ্ড তদন্তে ৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহে ও এ মামলার তদন্তের জন্য খুঁটিনাটি বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এসব কারণে এ মুহূর্তে মামলার বিষয়ে কোনো কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে তাদের চেষ্টা চলছে, আসল রহস্য বের হয়ে আসবে।
হোশি কোনিও হত্যার ঘটনায় শুক্রবার রাজশাহী থেকে আটক ২ ব্যাংক কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এ হত্যার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি বৈঠকে বসেছে।
উল্লেখ্য, হোশি কোনিও হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার স্থানীয় বিএনপি নেতা রাশেদুন্নবী বিপ্লবকে পুলিশ রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে কারাগারে পাঠানো নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার রাশেদুন্নবী বিপ্লব এবং তার ব্যবসায়িক সহযোগী হুমায়ুন কবির হীরাকে মঙ্গলবার ১০ দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ।
এছাড়া বৃহস্পতিবার রংপুর সিটি মেয়রের পক্ষ থেকে হোসি কোনিওর মৃতদেহ দাফনের কথা বলা হলেও জাপান দুতাবাস বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ যোগাযোগ না করায় মৃতদেহ আজও হাসপাতালের মর্গে রয়েছে।
এদিকে, হোশি কোনিওর হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জাপান স্টাডিজ সেন্টারের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে জাপান স্টাডিজ সেন্টারের উদ্যোগে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এ দাবি জানানো হয়।
বিশ্বের যে কোনো দেশের নাগরিক যেন বাংলাদেশে সুষ্ঠুভাবে কাজ করতে পারেন সেজন্য তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের ব্যবস্থা করতে সরকারের প্রতি দাবি জানানো হয় মানববন্ধনে।
গত ৩ অক্টোবর রংপুর শহরের উপকণ্ঠে আলুটারি মহিষওয়ালা মোড়ে হোশি কোনিওকে দুই মোটরসাইকেল আরোহী গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করে।