মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে কিশোরগঞ্জের পাঁচ ‘রাজাকারের’ বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
বিচারপতি মো. আনোয়ারুল হক নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল সোমবার পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্য শুরুর জন্য ৪ নভেম্বর দিন ঠিক করে দিয়েছে।
ওই পাঁচ আসামি হলো : শামসুদ্দিন আহমেদ, গাজী মো. আব্দুল মান্নান, নাসির উদ্দিন আহমেদ ওরফে ক্যাপ্টেন এটিএম নাসির, মো. হাফিজ উদ্দিন ও মো. আজহারুল ইসলাম।
আসামিদের মধ্যে গ্রেপ্তার শামসুদ্দিন আহমেদ অভিযোগ গঠনের সময় আদালতে উপস্থিত ছিল বাকিরা শুরু থেকেই পলাতক।
প্রসিকিউশনের পক্ষে অভিযোগ গঠনের শুনানিতে ছিলেন জেয়াদ আল-মালুম, সুলতান মাহমুদ সীমন ও রেজিয়া সুলতানা চমন।
এদিকে, আসামি শামসুদ্দিনের পক্ষে শুনানি করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আবদুস শুকুর খান।
সাত অভিযোগ
অভিযোগ ১: ১৯৭১ সালের ১২ নভেম্বর দুপুর ১টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ থানার বিদ্যানগর ও আয়লা গ্রামের মোট আট জনকে হত্যা ও একজনকে আহত করা।
অভিযোগ ২: ১৩ নভেম্বর আয়লা গ্রামের মিয়া হোসেনকে হত্যা।
অভিযোগ ৩: একই উপজেলার মো. আব্দুল গফুরকে অপহরণ করে ২৬ সেপ্টেম্বর খুদির জঙ্গল ব্রিজে নিয়ে হত্যা।
অভিযোগ ৪: ২৩ অগাস্ট করিমগঞ্জ উপজেলা ডাকবাংলোতে শান্তি কমিটির কার্যালয়ে আতকাপাড়া গ্রামে মো. ফজলুর রহমান মাস্টারকে অপহরণ, নির্যাতন ও হত্যা।
অভিযোগ ৫: ৭ সেপ্টেম্বর রামনগর গ্রামের পরেশ চন্দ্র সরকারকে হত্যা।
অভিযোগ ৬: ২৫ অগাস্ট পূর্ব নবাইদ কালিপুর গ্রামে আবু বক্কর সিদ্দিক ও রূপালীকে অপহরণ করে নির্যাতন ও হত্যা।
অভিযোগ ৭: ১৫ সেপ্টেম্বর আতকাপাড়া গ্রামে আক্রমণ করে ২০-২৫টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ।
উল্লেখ, গত ১০ মে এ মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। এরপর ১৩ মে অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল।