সিলেটে শিশু শেখ সামিউল আলম রাজন হত্যা মামলায় ৬ষ্ঠ দিন মঙ্গলবার ৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেছে আদালত।
দুপুর ১২টা থেকে গিয়াস মেম্বারসহ আরো ৪জনের সাক্ষ্যগ্রহণ নেয়া হয়। সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আকবর হোসেন মৃধা তাদের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন।
আদালতে সাক্ষ্য প্রদানকারীরা হচ্ছে: শেখপাড়া এলাকার আলোচিত সেই গিয়াস মেম্বার, কুমারগাঁয়ের বাসিন্দা আফতাব উদ্দিন, আব্দুল করিম ও কুরবান আলী।
রাজনের বাবার নিযুক্ত আইনজীবী শওকত চৌধুরী জানান, আজ ৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্যদিয়ে রাজন হত্যা মামলায় মোট ২১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হলো।
তিনি জানান, আগামীকাল ১৪ অক্টোবরও এ মামলায় টানা সাক্ষ্যগ্রহণ করবে আদালত।
এদিকে, রাজনকে পিটিয়ে হত্যাকারী মূল ঘাতক কামরুল আসলামকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সৌদি আরবে গেছেন তিন পুলিশ কর্মকর্তা।
আগামী ১৫ অক্টোবর কামরুলকে নিয়ে তাদের দেশে ফেরার কথা রয়েছে তাদের।
এর আগে রোববার দুপুরে সিলেটে শিশু শেখ সামিউল আলম রাজন হত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ হয়। সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতে আটক সকল আসামির উপস্থিতিতে ৫ম দিনের মতো সাক্ষ্যগ্রহণ করেন আদালতের বিচারক আকবর হোসেন মৃধা।
শিশু রাজনের ৩ প্রতিবেশি ওইদিন সাক্ষ্য দেন। এ মামলার মোট ৩৮ জন সাক্ষীর মধ্যে এ পর্যন্ত ১৭ জন সাক্ষ্য প্রদান করেন।
উল্লেখ, গত ৮ জুলাই ভোরে ‘চোর’ সন্দেহে শিশু রাজনকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পৈচাশিক নির্যাতনের ভিডিওচিত্র ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয় নির্যাতনকারীরা। প্রায় ২৮ মিনিটের সেই ভিডিও চিত্রটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। নিহত রাজন সদর উপজেলার কান্দিরগাঁও ইউনিয়নের বাদেআলী গ্রামের আজিজুল ইসলামের (আলম) ছেলে। হত্যাকাণ্ডের পর মহানগরীর জালালাবাদ থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) বাদী হয়ে মুহিত আলমসহ অজ্ঞাত ৪/৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
গত ১৬ আগস্ট সৌদি-আরবে আটক কামরুল ইসলামসহ ১৩ আসামিকে অভিযুক্ত করে আদালতে এ হত্যা মামলার চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ইন্সপেক্টর সুরঞ্জিত তালুকদার। এর আগে, মুহিত আলমসহ ৮ জন এ ঘটনায় আদালতে হত্যার দায় স্বীকার আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।
গত ২৪ আগস্ট আদালত এ মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। গত ২৫ আগস্ট জালালাবাদ থানা পুলিশ ৩ পলাতক আসামির মালামাল ক্রোক করে থানায় নিয়ে যান।