ইংরেজি মাধ্যমের স্কুল থেকে ভ্যাট আদায়ের বিষয়ে হাইকোর্টের আদেশ সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালত স্থগিত করেছে—ফলে এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে কর আদায়ে আর কোনো ‘আইনি বাধা থাকল না।
বুধবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআরের এক আবেদনের শুনানি শেষে অবকাশকালীন চেম্বার বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন হাইকোর্টের ওই আদেশের কার্যকারিতা আট সপ্তাহের জন্য স্থগিত করে দেয়।
এনবিআরের পক্ষে এ বিষয়ে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এস এম মনিরুজ্জামান।
তিনি বলেন, চেম্বার আদালত হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে নিয়মিত লিভ টু আপিল করতে বলেছে এর ফলে এখন ভ্যাট আদায়ে আইনগত কোনো বাধা রইল না।
গত সেপ্টেম্বরে এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলের টিউশন ফিতে আরোপিত সাড়ে ৭% ভ্যাট ছয় মাসের জন্য স্থগিত করে।
বাংলাদেশে ইংরেজি মাধ্যমের ১০২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের বেতনের ওপর ২০১২ সালে সাড়ে ৪% ভ্যাট আরোপ করা হয়। চলতি বছরের বাজেটে তা বাড়িয়ে করা হয় সাড়ে ৭%, সেই সঙ্গে এর আওতায় আনা হয় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে।
এরপর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামলে তাদের ক্ষেত্রে ভ্যাট আরোপের সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়। পরে একই দাবিতে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন করেন ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলগুলোর শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা।
এরপর সানিডেল ও সান বিম স্কুলের দুই শিক্ষার্থীর অভিভাবকের করা রিট আবেদনে গত ১৭ সেপ্টেম্বর বিচারপতি শামীম হাসনাইন ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর হাইকোর্ট বেঞ্চ ভ্যাট স্থগিতের আদেশ দেয়।
ভ্যাট আরোপের সিদ্ধান্ত কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুলও দেয় হাইকোর্ট। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান ও শিক্ষা সচিবকে এর জবাব দিতে বলা হয়।
রিট আবেদনকারীদের যুক্তি ছিল, বাংলা মাধ্যমের স্কুল-কলেজে ভ্যাট না থাকলেও ইংরেজি মাধ্যমের ওপর তা আরোপ করা ‘বৈষম্যমূলক’ এবং ‘সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতির পরিপন্থি’।