রংপুরে জাপানি নাগরিক কুনিও হোশি হত্যা মামলার আসামি হুমায়ূন কবীর হীরাকে ২য় দফায় পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার রংপুরের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আবু তালেব শুনানি শেষে এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাউনিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মামুনুর রশীদ মামুন বলেন, তার রিমান্ড শেষে আজ আবারো আবেদন করা হলে আদালত ৫ দিনের মঞ্জুর করে।
গত ৫ অক্টোবর হীরাকে প্রথম দফায় ১০ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। রংপুরে জাকারিয়া বালা নামে যে ব্যক্তির বাড়িতে হোশি ভাড়া ছিলেন তার শ্যালক এ হীরা।
তার কাছ থেকে ‘গুরুত্বপূর্ণ তথ্য’ পাওয়া গেছে জানিয়ে মামুন সাংবাদিকদের বলেন, তদন্তের স্বার্থে তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করার প্রয়োজনেই নতুন করে রিমান্ডের আবেদন করা হয়।
মামলার অপর আসামি রংপুর মহানগর বিএনপির সদস্য রাশেদ-উন-নবী খান বিপ্লবকেও একইসঙ্গে রিমান্ডে নেয়া হয়েছিল। পরে ১০ অক্টোবর আদালত রিমান্ড বাতিল করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।
বিপ্লব ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের ছোট ভাই।
কুনিও হত্যার ঘটনায় রংপুর, পাবনা ও রাজশাহী থেকে দুই ব্যাংক কর্মকর্তাসহ আরো ৬ জনকে আটক করা হয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদের তিন জনকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
এছাড়া জাকারিয়া বালা, মোন্নাফ আলী ও মুরাদ হোসেনকে এখনও জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
নিহত হওয়ার ১০দিন পর জাপান দূতাবাসের অনুরোধে রংপুরের মুন্সিপাড়া কবরস্থানে কুনিও হোশিকে দাফন করে স্থানীয় প্রশাসন।
স্থানীয়দের উদ্ধৃত করে আমাদের সংবাদদাতা জানিয়েছেন, গত জুলাই মাসে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তিনি গোলাম মোহাম্মদ কিবরিয়া নাম নিয়েছিলেন বলে।
মুন্সিপাড়ায় জাকারিয়া বালার বাড়িতে ভাড়া থেকেই কাউনিয়া উপজেলার সারাই ইউনিয়নের আলুটারি গ্রামে জাপানি কয়েল ঘাসের খামার করেছিলেন কুনিও। পাশেই জাকারিয়া বালার শ্যালক হীরার মাছের খামার। প্রতিদিন তারা একই সঙ্গে মোন্নাফ আলীর রিকশায় করে খামারে যেতেন।
গত ৩ অক্টোবর রিকশায় করে খামারে যাওয়ার পথে বেলা ১০টার কিছু পরে দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হন হোশি। এদিন হীরা তার সঙ্গে ছিলেন না।
এ ঘটনার পর কাউনিয়া থানার ওসি রেজাউল করিম বাদি হয়ে অজ্ঞাত পরিচয় তিনজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। পরে হীরা ও বিপ্লবকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডে নেয়া হয়।