একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী ও জামাত নেতা আলবদর কমান্ডার আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের রিভিউ আবেদনের শুনানি আগামী ১৭ নভেম্বর।
সোমবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে ৪ সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।
অন্য বিচারপতিরা হচ্ছেন: বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।
ফাঁসির রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ হলে পরবর্তী ৭ দিনের মধ্যে এ দুই যুদ্ধাপরাধী রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাইতে পারবেন। রাষ্ট্রপতি ক্ষমা না করলে, যে কোনো দিন তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে পারবে সরকার।
মানবতাবিরোধী অপরাধে ২০১৩ সালের ১৭ জুলাই আলবদর কমান্ডার আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদকে মৃত্যুদণ্ড দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ২০১৫ সালের ১৬ জুন আপিল বিভাগ মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে।
আর ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর মানবতাবিরোধী অপরাধে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসির আদেশ দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। পরে ২০১৫ সালের ২৯ জুলাই তারও মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে রায় ঘোষণা করে আপিল বিভাগ।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগ এ দুই যুদ্ধাপরাধীর মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করার পর তারা ১৪ অক্টোবর রায় পূনর্বিবেচনার আবেদন করেন।
২০১০ সালের ২৯ জুন ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় মুজাহিদকে। এরপর ওই বছরের ২ আগস্ট তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। একাত্তরের সুরকার আলতাফ মাহমুদ, শহীদ জননী জাহানারা
ইমামের ছেলে রুমি ও বদী আজাদসহ কয়েকজনকে হত্যায় নির্দেশসহ ৬ ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধের ৭টি অভিযোগ সুনির্দিষ্ট করা হয় মুজাহিদের বিরুদ্ধে।
আরেক যুদ্ধাপরাধী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ২০১০ সালের ১৬ ডিসেম্বর নাশকতার অভিযোগে গ্রেপ্তার হন। এরপর ওই বছরের ১৯ ডিসেম্বর তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
তার বিরুদ্ধে রয়েছে, মুক্তিযুদ্ধের সময় চট্টগ্রামে মুক্তিকামী বাঙালি হত্যা, গণহত্যা ও অগ্নিসংযোগসহ ৭২টি ঘটনায় ২৩টি অভিযোগ।