জাতীয় সংসদ ভবনের এলাকা নিয়ে করা স্থপতি লুই আই কানের ‘মাস্টার প্ল্যান’ আগামী ৩ মাসের মধ্যে সংসদ সচিবালয়ের সচিবকে আদালতে দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে আপিল বিভাগ।
বুধবার এ বিষয়ে হাইকোর্টের এক রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিলের শুনানিতে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বাধীন ৩ সদস্যের বেঞ্চ এ আদেশ দিয়েছে।
এস্তোনিয়ায় জন্মগ্রহণকারী মার্কিন স্থপতি লুই কান ১৯৬২ সালে ঢাকায় জাতীয় সংসদ ভবন কমপ্লেক্স ও আশেপাশের এলাকা নিয়ে যে নকশা করেছিলেন সেটি এখন যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এ নকশা সরকারের হাতে না থাকায় সচিবালয় শেরেবাংলা নগরে স্থানান্তরের একটি প্রস্তাব ইতোমধ্যে ঝুলে গেছে।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা। সঙ্গে ছিলেন সহকারি অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ সাইফুজাজ্জামান।
আদেশের পর মুরাদ রেজা বলেন, ‘আদালত জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা নিয়ে লুই আই কানের মাস্টার প্ল্যানটি ৩ মাসের মধ্যে দাখিল করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’
২০০৩ সালে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্টস বাংলাদেশ একটি রিট করে। এতে দাবি করা হয়, মূল নকশা লঙ্ঘন করে জাতীয় সংসদ এলাকায় এসব ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে।
প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আদালত রুলসহ নির্মাণ কাজে স্থগিতাদেশ দেয়। পরবর্তীতে হাইকোর্টের দেয়া স্থগিতাদেশ আপিল আদালতে স্থগিত হয়।
এর আগে, ২০০২ সালে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের ভবন নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
২০০৪ সালের ২১ জুন রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে হাইকোর্ট ওই ভবন নির্মাণ কার্যক্রম অবৈধ ঘোষণার পাশাপাশি নির্দেশনাসহ রায় দেয়।
রায়ে সংসদ ভবন এলাকা ‘ন্যাশনাল হেরিটেজ’ সাইট ঘোষণা করার নির্দেশ দেয়া হয়। পাশাপাশি ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ’ হিসেবে গণ্য করার জন্য ইউনেস্কোর কাছে আবেদন করতেও বলা হয়। হাইকোর্টের এ রায় স্থগিতে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করলে তা স্থগিত হয়ে যায়।
পরবর্তীতে রাষ্ট্রপক্ষ নিয়মিত লিভ টু আপিল করে। একই বছরের ১০ নভেম্বর তা মঞ্জুর করে আপিল বিভাগ। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার রাষ্ট্রপক্ষের আপিলের ওপর শুনানি শুরু হয়।
গতবছর জাতীয় সংসদ ভবনের চারপাশে নিরাপত্তা বেষ্টনি নির্মাণ নিয়ে সমালোচনার প্রেক্ষিতে ওই নকশা আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। সেজন্য স্থাপত্য অধিদপ্তর লুই কানের প্রতিষ্ঠান ডেভিড অ্যান্ড উইজডমের সঙ্গে যোগাযোগও করেছিল সরকার।
তবে মূল নকশা আনতে কত টাকা লাগবে সেই হিসাব করতেই এক বছরের বেশি সময় পার করে দিয়েছে সংসদ সচিবালয় ও স্থাপত্য অধিদপ্তর।