আদালত

না’গঞ্জে সাত খুন মামলা

কারাগারে নূর হোসেন

না’গঞ্জে নূর হোসেন
না’গঞ্জে নূর হোসেন

নারায়ণগঞ্জে সাত খুন মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনকে কারাগারে পাঠানো নির্দেশ দিয়েছে নারায়ণগঞ্জের আদালত।

শুক্রবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের বিচারিক হাকিম শহিদুল ইসলাম সাত খুনসহ ১১ মামলায় নূর হোসেনকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করে এ আদেশ দেন।

অভিযোগপত্রে প্রধান আসামি হিসেবে নাম থাকায় এ মুহূর্তে নূর হোসেনকে রিমান্ডে নেয়ার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তবে তাকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানান বাদীপক্ষের আইনজীবী।

এর আগে কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় নারায়ণগঞ্জ পুলিশ লাইন্স থেকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে আদালতের বিচারক সাইদুজ্জামান শরীফ তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

সকাল থেকেই আদালত পাড়া ও পুলিশ লাইনসে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়। মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ।

ঢাকায় র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র‌্যাব) সদর দপ্তর থেকে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে পুলিশ ও র‌্যাবের কঠোর নিরাপত্তায় তাকে নারায়ণগঞ্জে নিয়ে যাওয়া হয়।

এর আগে সকাল পৌনে ৭টার দিকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে নূর হোসেনকে যশোরের বেনাপোল থেকে রাজধানীর উত্তরার র‌্যাব-১ কার্যালয়ে আনা হয়। পরে সেখানে স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে নারায়ণগঞ্জের মামলার তদন্ত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়।

র‌্যাবের পক্ষ থেকে জানা গেছে, কঠোর নিরাপত্তায় নূর হোসেনকে ঢাকায় নেয়া হয়েছে।

এদিকে, বৃহস্পতিবার রাতে নারায়ণগঞ্জে সাত খুন মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনকে বাংলাদেশের কাছে ফেরত দেয় ভারত। যশোরের বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে হস্তান্তর করে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। তাকে নিয়ে রাতেই ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

এর আগে নূর হোসেনকে ফেরত পাঠাতে বিকালে কলকাতার দমদম কারাগার থেকে তাকে বের করা হয়। সেখান থেকে নূর হোসেনকে ভারতের পেট্রাপোল সীমান্তে নিয়ে আসে ভারতীয় পুলিশ। রাত সাড়ে ১০টার দিকে বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি ও ইমিগ্রেশন ওসি একটি মাইক্রবাসে করে ভারতের বন্দরে যান।

সেখানে সাড়ে ১১টার দিকে নূর হোসেনকে হস্তান্তর করা হয়। পরে সেখান থেকে দুই কর্মকর্তা নূর হোসেনকে নিয়ে বাংলাদেশে ফেরেন এবং দ্রুত বেনাপোল থেকে সড়ক পথে ওই মাইক্রোবাস ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্য কর্মকর্তাদের গাড়িগুলো বেরিয়ে যায়।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ ৭ জনকে অপহরণ করা হয়। ৩ দিন পর শীতলক্ষ্যা নদী থেকে উদ্ধার করা হয় তাদের মরদেহ।

এ ঘটনায় নিহত নজরুল ইসলামের পরিবার অভিযোগ করে র‌্যাবকে ৬ কোটি টাকা দিয়ে এ সাত খুন ঘটিয়েছে সিদ্ধিরগঞ্জের আওয়ামী লীগ নেতা নূর হোসেন। হত্যাকাণ্ডের এক বছর পর ৮ এপ্রিল নূর হোসেনকে প্রধান আসামি করে র‌্যাবের ৩ কর্মকর্তাসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।

ঘটনার পর থেকে পলাতক নূর হোসেনকে ২০১৪ সালের ১৪ জুন কলকাতার দমদম বিমানবন্দরের কাছে কৈখালী এলাকার একটি বাড়ি থেকে দুই সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ।

অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে গ্রেপ্তারের পর তাকে রাখা হয় দমদম কারাগারে।

পরে গতমাসে পশ্চিমবঙ্গের আদালত নূর হোসেনকে ফেরত পাঠানোর অনুমতি দেয়। এরপর থেকেই তাকে দেশে ফেরত আনতে আলোচনা চলছিল।

এ আলোচনা আরো জোর পায় বুধবার আসামের বিদ্রোহী নেতা অনুপ চেটিয়াকে ভারতের কাছে হস্তান্তরের পর।

দেশটিভি/এএ
দেশ-বিদেশের সকল তাৎক্ষণিক সংবাদ, দেশ টিভির জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখতে, সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল:

এছাড়াও রয়েছে

আল আমিনের তালাক: সন্তান নিয়ে আদালতে স্ত্রী

অস্ত্র মামলা: জি কে শামীমসহ ৮ জনের যাবজ্জীবন

আবেদন করলে খালেদা জিয়ার আবারো মুক্তির মেয়াদ বাড়বে: আইনমন্ত্রী

রুবেল-বরকতের অর্থপাচার মামলা ফের তদন্তের নির্দেশ আদালতের

জাহালমকে পাঁচ লাখ টাকা দিলো ব্র্যাক ব্যাংক

৮৫ নির্বাচন কর্মকর্তাকে চাকরিতে পুনর্বহালের আদেশ বাতিল

সরকারি কর্মচারীদের গ্রেপ্তারে পূর্বানুমতি বাতিলের রায় স্থগিত

ডেসটিনির চেয়ারম্যান হারুন-অর-রশিদের জামিন

সর্বশেষ খবর

স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার নারী দিবস উদযাপন

শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করলেন মোস্তাফিজুর রহমান

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইউল্যাব’ শিক্ষার্থীদের ফটোওয়াক

ভান্ডারিয়া ও মঠবাড়িয়ায় পৌর প্রশাসক নিয়োগ