মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী ও জামাত নেতা আলবদর কমান্ডার আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের রিভিউ আবেদনের শুনানি আগামীকাল (মঙ্গলবার)।
ফাঁসির রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ হলে পরবর্তী ৭ দিনের মধ্যে এ দুই যুদ্ধাপরাধী রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাইতে পারবেন। রাষ্ট্রপতি ক্ষমা না করলে, যেকোনো দিন তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে পারবে সরকার।
মানবতাবিরোধী অপরাধে ২০১৩ সালের ১৭ জুলাই আলবদর কমান্ডার আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদকে মৃত্যুদণ্ড দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এ বছর ১৬ জুন আপিল বিভাগ মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে। আর ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর মানবতাবিরোধী অপরাধে সাকা চৌধুরীর ফাঁসির আদেশ দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
পরে এ বছরের ২৯ জুলাই তারও মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে রায় ঘোষণা করে আপিল বিভাগ। গত ৩০ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগ এই দুই যুদ্ধাপরাধীর মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করার পর তারা ১৪ অক্টোবর রায় পূনর্বিবেচনার আবেদন করেন।
২০১০ সালের ২৯ জুন ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় মুজাহিদকে। এরপর ওই বছরের ২ আগস্ট তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। একাত্তরের সুরকার আলতাফ মাহমুদ, শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ছেলে রুমি ও বদী আজাদসহ কয়েকজনকে হত্যায় নির্দেশসহ ৬ ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধের ৭ টি অভিযোগ সুনির্দিষ্ট করা হয় মুজাহিদের বিরুদ্ধে।
আরেক যুদ্ধাপরাধী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ২০১০ সালের ১৬ ডিসেম্বর নাশকতার অভিযোগে গ্রেপ্তার হন। এরপর ওই বছরের ১৯ ডিসেম্বর তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তার বিরুদ্ধে আছে মুক্তিযুদ্ধের সময় চট্টগ্রামে মুক্তিকামী বাঙালি হত্যা, গণহত্যা ও অগ্নিসংযোগসহ ৭২টি ঘটনায় ২৩ টি অভিযোগ।