মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপির নেতা সালাউদ্দিন কাদের- চৌধুরীর (সাকা চৌধুরী) স্ত্রীর করা রিট আবেদন কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছে হাইকোর্ট।
সোমবার বিচারপতি তারিক উল হাকিম ও বিচারপতি মো. ফরিদ আহমদ শিবলীর গঠিত হাইকোর্টৈর একটি বেঞ্চ এ আদেশ দিয়েছে।
রিভিউ শুনানির আগে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠনসহ চারটি বিষয়ের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করেন সাকার স্ত্রী।
সাকা চৌধুরীর স্ত্রী ফারহাত কাদের চৌধুরীর পক্ষে এ বিষয়ে শুনানিতে করেন আইনজীবী মহসিন রশিদ। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আমাতুল করীম ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হাসানুজ্জামান।
আদেশের পর আমাতুল করীম সাংবাদিকদের বলেন, ট্রাইব্যুনাল গঠন করার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছিল রিটে— এ বিষয়ে হাইকোর্টের একটি রায় আছে ২০১০ সালের। সিদ্ধান্ত হয়ে যাওয়া একটি বিষয়ে আবারো আলোচনা করলে সময় নষ্ট হবে যুক্তি দেখিয়ে আদালত তা কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছে।
তিনি বলেন, তবে আবেদনকারী চাইলে অন্য বেঞ্চে আবারো বিষয়টি তুলতে পারবেন।
যুদ্ধাপরাধের দায়ে সর্বোচ্চ আদালতের দেয়া ফাঁসির রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) করতে সাকা চৌধুরীর করা আবেদনের শুনানির আগের দিন তার স্ত্রীর ওই আবেদন তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।
প্রসঙ্গত: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাকা চৌধুরীর পাশাপাশি জামাতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের রিভিউ আবেদনও মঙ্গলবার শুনবে আপিল বিভাগ।
প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চে এ রিভিউ শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
এ বেঞ্চই গত ১৬ জুন মুক্তিযুদ্ধের সময় বদর প্রধান আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের যুদ্ধাপরাধ মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করে। আর মুক্তিযুদ্ধকালীন চট্টগ্রামের ত্রাস সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর আপিলের রায় আসে ২৯ জুলাই।
রিভিউ খারিজ হলে ফাঁসি এড়াতে শুধু রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার সুযোগই কেবল থাকবে তাদের।
গত ৩ নভেম্বর আপিল বিভাগ রিভিউ শুনানির দিন ঠিক করে দেয়ার পর একই দিনে হাইকোর্টে এ রিট আবেদন করেন ফারহাত কাদের চৌধুরী।
সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা ব্যক্তি ও ব্যক্তি বিশেষের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের সুযোগসহ চার বিষয় চ্যালেঞ্জ করা হয় ওই আবেদনে।
ফারহাত পঞ্চদশ সংশোধনীতে সংবিধানের ৪৭ (৩) ধারায় আনা পরিবর্তনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন। কেউ যুদ্ধাপরাধ বা মানবতাবিরোধী অপরাধ করে থাকলে সেই ব্যক্তি বা ব্যক্তিসমষ্টির বিচারের বিষয়টি যুক্ত করা হয়েছে ওই ধারায়।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ৬ ধারা অনুসারে হাইকোর্টের বিচারপতিদের ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বা সদস্য করা হয় এটিও চ্যালেঞ্জ করছেন সালাউদ্দিন কাদেরের স্ত্রী।
সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন কাদেরের বিরুদ্ধে ২০১৩ সালে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের আগে তার খসড়ার অংশ ফাঁস হয়েছিল। তা নিয়ে করা মামলায় ফারহাত কাদের নিজেও আসামি।