সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) নেতা ও ‘আইএসের সমন্বয়ক’ শাফায়াতুল কবীরসহ সংগঠনের চার জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে আদালত।
মঙ্গলবার ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ রুহুল আমিন এ অভিযোগ গঠন করেন।
এ তিন আসামি হলেন: আনোয়ার হোসেন, মো. রবিউল ইসলাম ও নজরুল ইসলাম। তারা সবাই কারাগারে।
আদালতের পেশকার সাংবাদিকদের বলেন, আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ঠিক করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এ মামলার প্রধান আসামি শাফায়াতুল কবীর ছাড়া অন্য তিনজন মামলার দায় থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করলে আদালত তা নাকচ করেছে।
গত ১৫ মে ডিবির পরিদর্শক এ কে এম কামরুল আহসান যাত্রাবাড়ী থানায় করা একটি মামলায় {নম্বর-৪৩ (১) ২০১৫} দীর্ঘ তদন্ত শেষে এ অভিযোগপত্র জমা দেন।
বিরাজমান গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থাকে উৎখাত করে খিলাফত রাষ্ট্র গঠনের’ লক্ষ্যে তৎপরতা এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের হত্যার পরিকল্পনার অভিযোগে সিরিয়া-ইরাকভিত্তিক সন্ত্রাসবাদী সংগঠন ‘আইএসের সমন্বয়ক’ শাফায়াতুল কবীরসহ সংগঠনের চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।
অভিযোগপত্রে উ্ল্লেখ করা হয়েছে, আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ জব্দকৃত আলামত, সাক্ষ্য-প্রমাণে প্রমাণিত হয়েছে যে, উল্লিখিত আসামিরা বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) সক্রিয় সদস্য। আর একনম্বর আসামি শাফায়াতুল জেএমবির আঞ্চলিক সমন্বয়ক। সে পাকিস্তান হতে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে জেএমবির পাশাপাশি আইএসআইএস-এর সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছে। তারা জেএমবি ও আইএসআইএসের মতাদর্শে উজ্জীবিত হয়ে পরস্পর যোগসাজশে খিলাফত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য গোপনে বিভিন্ন ভিডিও প্রদর্শন ও জিহাদি লিফলেট বিতরণ করেছে।
দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের হত্যার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে অভিযোগপত্রে বলা হয়, ‘আসামিদের বিরুদ্ধে গোপনে অর্থ ও কর্মী সংগ্রহ, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার মাধ্যমে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানো, দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ওপর হামলা করে ক্ষতিসাধন ও হুমকির সৃষ্টি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য অর্থ সংগ্রহ ও যোগদানের অপরাধ প্রাথমিকভাবে সত্য প্রমাণিত হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়, গত ১৮ জানুয়ারি যাত্রাবাড়ী থানার খানবাড়ী চৌরাস্তায় মৃত মো. খানের বাড়িতে জেএমবির আঞ্চলিক সমন্বয়ক শাফায়াতুল আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী সংগঠন আইএসআইএসের দিকনির্দেশনা মোতাবেক সদস্য সংগ্রহের জন্য গোপনে বৈঠক করছিলেন। ওই বাসা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে আইএসআইএস-সম্পর্কিত জিহাদি প্রচারপত্র, তার ল্যাপটপে আইএসআইএস-সংক্রান্ত প্রচুর ভিডিও জব্দ করা হয়।