পিলখানা হত্যা মামলায় আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) ওপর হাইকোর্টে যে বিশেষ বেঞ্চে শুনানি চলছে সেই বেঞ্চের বিচারকদের নিরাপত্তা দেয়ার জন্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
বৃহস্পতিবার বিচারপতি শওকত হোসেন, বিচারপতি আবু জাফর সিদ্দিকী ও নজরুল ইসলাম তালুকদারের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দিয়েছে।
এ বিষয়ে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম জাহিদ সারওয়ার সাংবাদিকদের বলেন, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনা করে আদালত সপ্রণোদিত হয়ে আজ এ আদেশ দেন।
হাইকোর্টে পিলখানা হত্যা মামলার ১৩৯তম দিনের শুনানি চলে।
আদেশর পর ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জেনারেল কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজল বলেন, আসামির সংখ্যার দিক দিয়ে দেশের ইতিহাসে এটাই সবচেয়ে বড় মামলা হওয়ায় এবং বর্তমান প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে বিচারকদের নিরাপত্তা বাড়ানোর এ নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এ বেঞ্চে পিলখানা হত্যা মামলায় ১৫২ আসামির ডেথ রেফারেন্সের (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) ওপর শুনানি চলছে। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ ডেথ রেফারেন্সের সমর্থনে যুক্তি দিচ্ছে।
হাইকোর্টে এ মামলার শুনানি শুরু হয় চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি। শুনানির ১২৪তম দিনে ১ নভেম্বর রাষ্ট্রপক্ষ পেপারবুক (মামলার বৃন্তান্ত ও রায়সহ বই) উপস্থাপন শেষ করলে আদালত ৮ নভেম্বর রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি উপস্থাপনের দিন ঠিক করে।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জাহিদ সারওয়ার কাজল শুনানি করছেন। তাদের সঙ্গে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল গাজী মো. মামুনুর রশীদ ও মো. আসাদুজ্জামান।
আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী এস এম শাহজাহান, আমিনুল ইসলাম ও শামীম সরদারসহ।
উল্লেখ, ২০০৯ সালে তৎকালীন বিডিআর সদরদপ্তরে বিদ্রোহের ঘটনায় ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন নিহত হন। ওই ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ১৬১ জনকে যাবজ্জীবন এবং ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয় জজ আদালত।
রায়ের পর ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) হাইকোর্টে আসে। দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল ও জেল আপিল করে আসামিপক্ষ। এছাড়া ৬৯ জনকে খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করে।
জাহিদ সারওয়ার জানান, রাষ্ট্রপক্ষ এ পর্যন্ত ১৩২ জনের ডেথ রেফারেন্সের সমর্থনে যুক্তি উপস্থাপন করেছে। এই যুক্তি উপস্থাপন বৃহস্পতিবার শেষ হতে পারে।