দুর্নীতির আরেকটি মামলায় বিএনপি নেতা ও সাবেক সিটি করপোরেশনের মেয়র সাদেক হোসেন খোকাসহ চার জনের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছে আদালত।
রোববার ঢাকা বিভাগীয় বিশেষ জজ এন আতোয়ার রহমান ১৫ ফেব্রুয়ারি মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ঠিক করছেন।
আদালত সূত্র জানা গেছে, আসামি সাদেক হোসেন খোকাকে পলাতক দেখিয়ে বিচার শুরুর এ আদেশ দেয়া হয়েছে।
এ মামলার অপর তিন আসামি হলেন: বনানী ডিসিসি ইউনিক কমপ্লেক্স দোকান মালিক ও ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান আজাদ, সভাপতি আবদুল বাকের নকী এবং বনানী সুপার মার্কেটের ব্যবস্থাপক এইচ এম তারেক।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আসামি সাদেক হোসেন খোকা মেয়র থাকাকালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ও পরোক্ষভাবে আর্থিকভাবে লাভবান হন বা অন্যকে দোকান মালিক ও ব্যবসায়ী সমিতিকে আর্থিকভাবে লাভবান করা অবৈধ ব্যবস্থা করেন। ৩০ লাখ ৮২ হাজার ৩৯৯ টাকা আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপপরিচালক নূর হোসেন খান ২০১২ সালের ৭ নভেম্বর সাদেক হোসেন খোকাসহ এ চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
প্রসঙ্গত: এর আগে ২০ অক্টোবর জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকাকে ১৩ বছরের কারাদণ্ডা দেয় আদালত। একই সঙ্গে ১১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড ও অনাদায়ে ৭ মাসের কারাদণ্ডাদেশ দেয়া হয়েছে। খোকার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে অবৈধভাবে অর্জিত সব সম্পদ বাজেয়াপ্ত করারও নির্দেশও রয়েছে আদালতের।
ঢাকার বিশেষ জজ-৩ এর বিচারক আবু আহমেদ জমাদার এ রায় দেন। রায়ে বলা হয়, আসামি খোকা ১০ কোটি পাঁচ লাখ ২১ হাজার ৮৩২ টাকা ৫৪ পয়সা অসৎ উপায়ে অর্জন করে নিজ দখলে রেখেছেন। ওই টাকার সমমূল্যের খোকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেয় আদালত।
গত ২০০৮ সালের ২ এপ্রিল দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক শামসুল আলম রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করেন। তদন্ত করে দুদক ২০০৮ সালের ১ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। গত বছরের ৩০ অক্টোবর খোকার বিরুদ্ধে বিচার শুরু করেন আদালত। এই মামলার মোট ৪৩ জন সাক্ষীর মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষ ৪০ জনকে আদালতে উপস্থিত করে।